প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৬:৪৮ পিএম (ভিজিট : ১৫২)

X
ফাইল ছবি
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ এসেছে সংশ্লিষ্ট বেতন কমিশনগুলোর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুনর্গঠিত একটি কমিটি থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।
গত ২১ এপ্রিল সরকার জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন–সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি পুনর্গঠন করে। সম্প্রতি সেই কমিটি তাদের মতামত জমা দিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে এই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। এতে আর্থিক চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা জুলাই থেকেই শুরু হতে পারে।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রস্তাবগুলো এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায় থেকে আসবে। প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ভাতা—যেমন চিকিৎসা ভাতা—ক্রমে বাড়ানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। দীর্ঘ সময় পর নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি পায় এবং ২০২৪ সালে এ বিষয়ে কমিশন গঠন করা হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে অনুপাত ধরা হয়েছে ১:৮—যা আগের তুলনায় কম। উদাহরণ হিসেবে, বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মোট বেতন-ভাতা প্রায় ১৬,৯৫০ টাকা হলেও নতুন কাঠামোতে তা বেড়ে ৪১,৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এছাড়া বিভিন্ন গ্রেডে ভাতা বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে, যদিও উচ্চ গ্রেডের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে। কিছু ভাতা যেমন যাতায়াত, টিফিন বা ঝুঁকিভাতা নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীরা আগের মতোই পাবেন। নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে বিদ্যমান বিশেষ ভাতাগুলোও সমন্বয়ের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।