নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় জেলা প্রশাসকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

নতুন সরকারের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসকেরা।রোববার (৩

2026-05-04T19:20:04+00:00
2026-05-04T19:20:04+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নতুন সরকারের নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় জেলা প্রশাসকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:২০ পিএম   (ভিজিট : ৪২৫)
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক
X

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক

নতুন সরকারের গৃহীত নীতি ও কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলা প্রশাসকেরা। 

রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদানকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এ আহ্বান জানান। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা  বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে সরকারের সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকেরা তা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাল খনন কর্মসূচি, পরিবেশ উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, সাপ্তাহিক গণশুনানি সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জনগণের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকেরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে স্বল্প সময়ে জনগণের প্রত্যাশিত সেবা প্রদান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি  দেশের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের অব্যাহত ভূমিকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে রবিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মুক্ত আলোচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম দেশে ইট উৎপাদনে ব্যবহৃত উর্বর মাটির বিকল্প হিসেবে খাল খননের মাটি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়ছেন। তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ইট উৎপাদনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১৩ কোটি মেট্রিক টন মাটি, যা প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাধ্যমেই সংগ্রহ করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, খাল খননের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা গেলে উর্বর টপসয়েল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে এবং কৃষিজমির ক্ষতি কমবে। 

আবাদি জমি রক্ষায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বসতভিটার জন্য কৃষিজমি নষ্ট না করে উল্লম্বভাবে (উঁচু ভবন) গৃহনির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এছাড়া পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনা এবং গৃহনির্মাণে কৃষিজমি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ প্রায়শই গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে রাস্তার দুই পাশের আবাদি জমি থেকে টপসয়েল কেটে ব্যবহার করে—এ কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এ ক্ষেত্রে খাল খননের মাটি ব্যবহার করে রাস্তা মেরামত বা সংস্কারের পরিকল্পনা করা উচিত।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আরও জানান, ১৯৭১ সালে দেশে আবাদি জমি ছিল প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ হেক্টর, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টরে। একই সময়ে জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৮ কোটিতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর কৃষিশুমারি ২০১৯ অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১১ বছরে আবাদি জমি কমেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর। গত ১০ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই বসতভিটা, সড়ক নির্মাণ ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন কারণে ২৩ হাজার ২৭ দশমিক ৮৬ হেক্টর জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি গত ১৬ মার্চ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়ায় নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টন কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল ইট উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy