
X
স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, বরং প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এলাকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত রোগীর চাপে জর্জরিত, স্বাস্থ্যকর্মীরাও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছেন। এর ফলে মানসম্মত চিকিৎসা সেবায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় একটি অংশ জনগণকেই বহন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সহজলভ্য ও কার্যকর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। নবজাতক থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়, সেটিই লক্ষ্য হওয়া উচিত। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য দ্রুত ও সহজ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, এইসব এলাকার মানুষ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তাদের শ্রম দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানের জন্য স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা উদ্বেগজনক।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে কিছু নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী গড়ে তুলতে হবে, যারা জনগণকে হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে অবহিত করবে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এ তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
এর আগে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার এবং ৫০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, সবার জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।