মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটের আশা, ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে আশাবাদী শান্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল । ছয় মাস বিরতির পর আবার ঘরের মাঠে

2026-05-07T17:57:35+00:00
2026-05-07T17:59:30+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেটের আশা, ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে আশাবাদী শান্ত
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম  আপডেট: ০৭.০৫.২০২৬ ৫:৫৯ পিএম  (ভিজিট : ৫১)
বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত
X

বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত

গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল । ছয় মাস বিরতির পর আবার ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের সিরিজ। লম্বা এই বিরতিতে সাদা বলের ক্রিকেটাররা নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও লাল বলের ক্রিকেটাররা সেই সুযোগ পায়নি।

ফলে টেস্ট ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ কিছুটা নড়বড়ে অবস্থাতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে। শান্তও দাবি করছেন, লাল বলের ক্রিকেটারদের জন্য হুট করে ম্যাচ খেলাটা একটু কঠিন। শুক্রবার টেস্টের আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন শান্ত। সেখানে তিনি বলেন, ‘এতদিন পর আবার এই ফরম্যাটে খেলা অবশ্যই কঠিন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, অন্তত একটি চার দিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ তারা পেয়েছে। মুমিনুল ভাই, তাইজুল ভাই, নাইম, জয়-সবার জন্যই হুট করে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরে আসাটা চ্যালেঞ্জিং।’

শান্ত আরও বলেন, ‘তারা সবাই পেশাদার ক্রিকেটার। নিজেদের প্রস্তুতি ঠিকভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকে। দলকে যতটা সম্ভব দেওয়ার মানসিকতাই তাদের মধ্যে কাজ করে। আমি খুবই খুশি যে সবাই মন থেকে দলের জন্য পারফর্ম করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতির কারণে সবসময় সবকিছু আদর্শভাবে করা সম্ভব হয় না। তবে আমরা একটি জিনিস সবসময় করতে পারি, ইতিবাচকভাবে চিন্তা করা, ভালো প্রস্তুতি নেওয়া এবং অনুশীলনে শতভাগ দেওয়া। আর এই কাজগুলো ক্রিকেটাররা নিয়মিতই করে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ দল সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই সিরিজের দুই টেস্টেই দাপটের সঙ্গে জিতেছে বাংলাদেশ। সেই ইতিবাচক ফলাফল দলকে উজ্জীবিত করছে বলে জানালেন শান্ত, ‘আমার মনে হয়, শেষ সিরিজের ফলাফল আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তবে এই সিরিজেও আবার ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রতিটি ম্যাচে আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ফলাফলও আমাদের পক্ষেই আসবে। আমরা রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিদিন ভালো ক্রিকেট খেলা এবং প্রতিদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দেওয়া।’

ঢাকা টেস্ট শুরুর আগেই হোয়াইটওয়াশ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে শান্ত এতদূর ভাবতে চান না, ‘হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনোই সেভাবে চিন্তা করি না। আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই ১০ দিনের ক্রিকেটে আমরা কীভাবে প্রতিদিন আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দিতে পারি। ফলাফল নিয়ে আগেভাগে ভাবার চেয়ে আমি প্রক্রিয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দিই। কারণ ভালো প্রক্রিয়ার মধ্যেই ভালো ফলের ভিত্তি তৈরি হয়।’

ঢাকা টেস্টে মিরপুরের উইকেটে স্পোর্টিং হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উইকেটে হালকা ঘাস রাখা হয়েছে, যেখানে পেসারদের ভূমিকাও থাকবে গুরুত্বপূর্ণ। শুরুর কয়েকটা দিনে ব্যাটারদের কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে শান্তর বিশ্বাস, ভালো উইকেটই হবে, ‘ভালো উইকেট হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আপনি যদি আমাদের বর্তমান দলটা দেখেন, তাহলে বলব—বোলিং আক্রমণ অভিজ্ঞ, আর ব্যাটিং ইউনিটও অনেকটা সেটেল্ড। অনেকেই এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন ধরে খেলছে। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে কয়েকটি সিরিজ একসঙ্গে খেলার কারণে ব্যাটারদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। তাই অভিজ্ঞতার দিক থেকে আমরা একটি ভালো দলই।’

দলের ভারসাম্য নিয়ে শান্ত আরও বলেন, ‘আমাদের দলে ভালো পেসার আছে, ভালো স্পিনারও আছে। দুই বিভাগেই ভারসাম্য রয়েছে। তাই স্পোর্টিং উইকেট হলে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। তবে উইকেট কালকে কী হবে বা পরের পাঁচ দিনে কী হবে, সেটা অনেকটাই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে। সেই অনুযায়ী আমাদের অ্যাডজাস্ট করতে হবে।’

মিরপুরের উইকেট নিয়ে শান্তর মূল্যায়ন, ‘পেস বোলাররাও এখানে বাড়তি সাহায্য করবে, বিশেষ করে স্পিনারদের ক্ষেত্রে। আগে দেখা যেত স্পিনাররা অনেক লম্বা স্পেল বল করত, ফলে তাদের বিশ্রামের সময় কম থাকত। তবে এখন পেস ও স্পিনের যে কম্বিনেশন আছে, দুই বিভাগই যদি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে টিম অনেক বেশি উপকৃত হবে।’

ঢাকা টেস্ট জিততে হলে ব্যাটারদের বড় স্কোর গড়ার বিকল্প নেই। এই বিষয়ে ড্রেসিংরুমে আলোচনা নিয়মিত হয় বলে জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘ব্যাটসম্যানদের নিয়ে নরমালি ড্রেসিংরুমে, প্র্যাকটিসে বা প্রিপারেশন ফেজে সবসময়ই আলোচনা হয় কীভাবে ১০০, ১৫০ বা ২০০ রানের মতো বড় ইনিংস খেলা যায়। কারণ ব্যক্তিগত বড় রানই আসলে টিমকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। তাই প্রত্যেক ব্যাটসম্যানেরই লক্ষ্য থাকে কীভাবে দলের জন্য বড় রান করা যায়। সেই মোটিভেশন নিয়েই সবাই ব্যাটিং করে।’








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy