
X
সংগৃহীত ছবি
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে র্যাবের জন্য ১৬৩টি যানবাহন কেনা, টিসিবির জন্য সয়াবিন তেল আমদানি, স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো এলএনজি সংগ্রহ, নতুন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং শেরেবাংলা নগরে ১২তলা সরকারি অফিস ভবন নির্মাণসহ একাধিক বড় ব্যয় ও ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১৬৩টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি জিপ, ১০০টি পেট্রল পিকআপ ও ৬০টি এসি মাইক্রোবাস। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে এ জন্য ব্যয় হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব যানবাহন সংগ্রহ করা হবে।
সূত্র জানায়, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্রে সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ রাখা হলেও দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও র্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পায়।
এ ছাড়া টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান পিটি ট্রিনিটি ছায়া এনার্জি প্রতি লিটার ১ দশমিক ১৫১ মার্কিন ডলারে তেল সরবরাহ করবে। সরকারের হিসাবে, আমদানি ব্যয় ধরেও প্রতি লিটার তেলের খরচ স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় প্রায় ১৬ টাকা কম পড়বে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্পট মার্কেট থেকে আরও তিন কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার বেশি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া, বিপি সিঙ্গাপুর ও গানভর সিঙ্গাপুর থেকে জুন মাসে এসব এলএনজি আনা হবে।
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণের তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৬ কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় উপকেন্দ্র নির্মাণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন ও চালুকরণের কাজ করবে কয়েকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
অন্যদিকে সরকারি মালিকানাধীন নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সিরাজগঞ্জ ও ভেড়ামারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে বছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ২০১ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করছে সরকার।
বৈঠকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১২তলা আধুনিক সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড ভবনটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির আওতায় পানি সরবরাহ, স্যানিটারি ও বিদ্যুতায়নের কাজও সম্পন্ন করা হবে।