
X
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শান মাসুদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত
গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল । ছয় মাস বিরতির পর আবার ঘরের মাঠে টেস্ট খেলতে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আগামীকাল শুক্রবার (৮ মে) পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্ট দিয়ে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের সিরিজ। আগামীকাল শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় শুরু হবে প্রথম টেস্ট ম্যাচটি। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
উৎসবমুখর এক আবহে বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট ক্রিকেট খেলেছিল। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলেন মুশফিকুর রহিম-যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। একই সময়ে আয়ারল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বাসে ভেসেছিল পুরো দেশ। এরপর সময়টা খুব একটা শান্ত ছিল না। খেলোয়াড়দের বয়কট, টি২০ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া এবং বিসিবি সভাপতির আরেক দফা পরিবর্তন-সব মিলিয়ে নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে। যদিও এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সাফল্যও পেয়েছে টাইগাররা।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অর্জিত ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের স্মৃতি পেছনে রেখে এবার ঘরের মাটিতে নতুন আরেকটি টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক দলের অনেকেই বিশ্বাস করেন, আসন্ন দুই ম্যাচের সিরিজেও ২০২৪ সালের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি সম্ভব। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, কোচ ফিল সিমন্স এবং পেস আক্রমণের নেতা তাসকিন আহমেদ অতীতের স্মৃতির ওপর নির্ভর করতে নারাজ। তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি সাম্প্রতিক ফর্ম, সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি এবং ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করা পেস আক্রমণ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল। বিদেশের মাটিতে ভালো পারফরম্যান্স করলেও ঘরের মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল আসেনি। এবার সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন সফর। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের এই সিরিজকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ দল। বর্তমান চক্রে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। একটি ড্র হলেও অন্যটিতে হারতে হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে প্রথম জয়ের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমরা সপ্তম স্থানে শেষ করেছি, যা অবশ্যই ভালো অর্জন ছিল। এবার লক্ষ্য থাকবে পয়েন্ট তালিকায় চার বা পাঁচ নম্বরে থাকা। সামনে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন সফর রয়েছে। তাই ঘরের মাঠের সিরিজগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
গত চক্রে নিজেদের মাঠেই বাংলাদেশের পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। এবার কোথায় উন্নতি হয়েছে-এমন প্রশ্নে নাজমুল বলেন, ‘আমাদের পেস বোলাররা স্কিলের দিক থেকে অনেক উন্নতি করেছে, যা অধিনায়ক হিসেবে আমাকে বাড়তি সুবিধা দেয়। আমি চাই ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুক। পেসার ও স্পিনারদের সঠিক সমন্বয়ই আমাদের সফল হতে সাহায্য করবে।’
মিরপুরের উইকেটে এখন টেস্ট ক্রিকেটেও ঘাসের উপস্থিতি দেখা যায়। দুই দলই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ‘স্পোর্টিং উইকেটে’র প্রত্যাশা করছে। দুই দলের মূল শক্তিও পেস আক্রমণ। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস খুব আশাব্যঞ্জক নয়। ম্যাচের শেষ তিন দিনে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ম্যাচের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুরুতেই বড় সংগ্রহ গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে দুই দলেরই।
বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের লক্ষ্যও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ আপাতত বাস্তবতাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমানকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিস্থিতিকে সম্মান করা। আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছি, যা একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং এবং সুযোগেরও। এখনই খুব দূরের কথা ভাবতে চাই না। প্রতিটি দলই ফাইনাল খেলার এবং শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের পুরো মনোযোগ বাংলাদেশ সিরিজেই।’
তাদের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজম দলে রয়েছেন। তাইতো এবার ভালো কিছুর আশায় করতে পারেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।