
X
মিরপুর টেস্টে শুক্রবার পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর নাজমুল হোসেন শান্তর উচ্ছ্বাস-ইন্টারনেট
মিরপুর টেস্টে শুক্রবার পাকিস্তানের মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বলকে এগিয়ে মিড অন দিয়ে উড়িয়ে ছক্কায় নব্বুই পেরিয়ে গেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেই আব্বাসকেই পরের ওভারে কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে স্পর্শ করেন তিন অঙ্ক। ১২ চার, ২ ছক্কায় আশির কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে মিরপুরে নবম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অবশ্যই সেঞ্চুরি তুলেই থেমে গেছেন তিনি।
উইকেটে বেশ জমে গিয়েছিল শান্ত আর মুমিনুল হকের জুটি। ঠিক তখনই ভাঙল ১৭০ রানের জুটিটা। তবে তার আগে শান্ত করে ফেলেছেন নিজের ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। করেছেন অন্যরকম এক হ্যাটট্রিকও! আগের দুই সিরিজে যথাক্রমে শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। তার মধ্যে গল টেস্টে টানা দুই ইনিংসেই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন শান্ত। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেও তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ফেললেন তিনি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন শান্ত। ৪০ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৪ বার ফিফটি ছুঁয়ে ৯টিকেই রূপ দিলেন তিনি শতরানে। সবশেষ পাঁচ টেস্টে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি এটি। বাংলাদেশের হয়ে তার চেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি আছে তিনজনের। তবে একটি জায়গায় তিনিই এখন সবার ওপরে। বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন এককভাবে তার।
নেতৃত্বের ৩০ ইনিংসে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি। ছাড়িয়ে গেলেন তিনি মুশফিকুর রহিমকে (৬১ ইনিংসে ৪টি)। অধিনায়ক হিসেবে ৩১ ইনিংসে মুমিনুল হকের শতরান ৩টি। রেকর্ড ও মাইলফলকের জন্যই শুধু নয়, শান্তর ইনিংসটি ক্রিকেটীয় বিচারেও একদম বিশ্বমানের। প্রতিপক্ষের বোলিং ও পারিপার্শ্বিকতা মিলিয়ে সত্যিকারের শীর্ষ মানের ইনিংস।
যদিও এদিন দলের বিপর্যয়ে ক্রিজে এসেছিলেন শান্ত। শুরুতে দুই অন ড্রাইভে বুঝিয়ে দেন বিপদ উড়িয়ে দিনটি নিজের করে নিতে এসেছেন তিনি, হলোও তাই। ঝমমলে ব্যাটিংয়ে স্ট্রোকের পসরায় করেন টেস্ট শতক। টেস্টে শান্তর এটি নবম সেঞ্চুরি, এই সংস্করণে ফিফটি আছে তার ছয়টি। অথাৎ ফিফটি পেরুলে বেশিরভাগ ইনিংস তিন অঙ্কে নিয়ে যাওয়ার সামথ্য দেখিয়েছেন শান্ত।
১২৯ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন শান্ত, কিন্তু শতক ছোঁয়ার পরের বলেই ফিরতে হয় তাকে। আব্বাসের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরত যান তিনি। ১৩০ বলে ১০১ রানে থামেন বাঁহাতি ব্যাটার। তবে তার আগেই অবশ্য মুমিনুল হককে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটিও হয়ে গেছে। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৭০ রান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে আগের সর্বোচ্চ ছিলো জাভেদ ওমর বেলিম ও মোহাম্মদ আশরাফুলের। সেই ২০০৩ সালে পেশোয়ারে ১৩০ রান যোগ করেছিলেন তারা। শান্ত-মুমিনুল সেটা ছাড়িয়ে আরও অনেক বড় করে ফেললেন রেকর্ড।
বাংলাদেশের তৃতীয় উইকেট পতনের খানিক পরই শেষ হয়েছে দিনের দ্বিতীয় সেশন। মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার প্রথম দুই সেশনে স্বাগতিকরাই এগিয়ে। টস জিতে বাংলদেশকেই ব্যাট করতে দিয়েছিলো সফররত পাকিস্তান। চা-বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০১ রান।
মিরপুর টেস্টে শুক্রবার যখন উইকেটে এলেন, পাক পেসাররা রীতিমতো ত্রাস ছড়াচ্ছিলেন। তিনি এসেই পাল্টা-আক্রমণে ভেঙেদেন পাক পেসারদের কৌশল। সেঞ্চুরিটাও পেয়ে গেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে খেলেই। ১২৯ বলেই সেঞ্চুরি পেয়ে গিয়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এর আগে ৫ টেস্ট খেলেছেন শান্ত। তবে সেঞ্চুরির দেখা আর পাননি, এবারই প্রথম।
সেঞ্চুরি ছোঁয়ার ঠিক পরের বলেই তাকে বিদায় নিতে হয়। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে চার মেরে সেঞ্চুরি করার ঠিক পরেই তার হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বলটা প্যাডে লাগে শান্তর। আম্পায়ার সাড়া দেননি, রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ তাদের তৃতীয় উইকেট খোয়ায় ২০১ রানে। তবে তার বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিম এসেছেন ক্রিজে। তবে মোহাম্মদ আব্বাসের সে ওভার শেষ হতেই চা বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়ার।