বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বুলেটিন ডেস্ক

জাতীয়

বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। আখচাষি, শ্রমিকদের স্বার্থ এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে লাভজনক পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

2026-05-09T19:24:21+00:00
2026-05-09T19:24:21+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম   (ভিজিট : ৪৪)
বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী
X

বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, বন্ধ হয়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ প্রক্রিয়ায় আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের কয়েকটি চিনিকল বন্ধ রয়েছে এবং চালু থাকা অনেক মিলও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অধিকাংশ মিলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছর অতিক্রম করেছে। ফলে আধুনিকায়ন, সংস্কার ও নতুন প্রযুক্তি সংযোজন ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয়।

আজ শনিবার (৯ মে) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা চত্বরে আখচাষিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দেশের মানুষের সম্পদ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সৎ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি নিয়ে আসুক।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যদি চালা (টিনের চালা) ঠিক না করে চিনি বানানো হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, কোনো কোনো মিল নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চালু করতে হবে, কোথাও অবকাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় নিতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রেই আখচাষিদের স্বার্থ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং লাভজনক পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, একটি শিল্পকারখানা সচল থাকলে শুধু সরাসরি শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বন্ধ মিলগুলো পুনরায় সচল করা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়লে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, স্থানীয় অর্থনীতি সক্রিয় হবে এবং দারিদ্র্য কমবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামান, আখচাষি প্রতিনিধি, শ্রমিকনেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভা শেষে বন্ধ চিনিকল চালুর দাবিসংবলিত প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি শিল্পমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন চিনিকলের শ্রমিক ও আখচাষিরা।

উল্লেখ্য, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড ১৯৬৬-৬৯ সালে দৈনিক ১ হাজার ১৬ টন আখমাড়াই ক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের পর থেকে ব্যয় বৃদ্ধি, আখ উৎপাদন কমে যাওয়া ও অন্যান্য কারণে কারখানাটি লোকসানে পড়ে। ২০২০ সালে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩০ কোটি টাকা। একই বছরের ডিসেম্বরে দেশের আরও ছয়টি চিনিকলের সঙ্গে পঞ্চগড় চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।





  বিষয়:   রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল  শিল্পমন্ত্রী  আখচাষি  পঞ্চগড় চিনিকল  শিল্প মন্ত্রণালয়  বাংলাদেশ চিনি শিল্প  চিনিকল আধুনিকায়ন  অর্থনীতি 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy