
X
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনে হাফ সেঞ্চুরিরে দেখা পান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক সৌরভ-ইন্টারনেট
মিরপুর টেস্টে সোমবার চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করলেন মুমিনুল হক সৌরভ । টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ২৬তম হাফসেঞ্চুরি। এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য আউট হয়ে গেছেন ৫৬ রানে। টেস্টে এই নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করলেন মুমিনুল।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর নভেম্বরে টেস্ট সিরিজে তিন ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন। সিলেটে এক ইনিংসই ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ, তাতে করেছিলেন ৮২। এরপর মিরপুর টেস্টের দুই ইনিংসে ৬৩ ও ৮৭।
চলমান মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৯১, পরের ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করার পর আপনার মনে প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক-টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যান কি টানা পাঁচ ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন? উত্তর হলো, তামিম ইকবাল। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন তামিম ইকবাল। এর মধ্যে লর্ডস ও ম্যানচেস্টারে বিখ্যাত সেই দুই সেঞ্চুরিও আছে।
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকার পর মাঠে নেমেই ছন্দ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স উপহার দেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে ফিফটির পরই আউট হয়ে যান মুমিনুল।
ব্যক্তিগত এক বড় অর্জনের দেখা পেয়েছেন মুমিনুল। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ৩৮তম ওভারের শেষ বলে নোমান আলীর বিপক্ষে এক রান নিয়ে পৌঁছে যান এই অর্জনে। একই সঙ্গে তুলে নেন নিজের টানা পঞ্চম ফিফটিও।
বাংলাদেশের হয়ে এর আগে শুধু মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালই টেস্টে ৫ হাজার রান করতে পেরেছিলেন। মুমিনুল এই মাইলফলকে পৌঁছাতে খেলেছেন ৭৬টি টেস্ট ও ১৪১ ইনিংস। তার নামের পাশে রয়েছে ১৩টি সেঞ্চুরি ও ২৭টি অর্ধশতক। মুমিনুলের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন শান্তও। অধিনায়কও তুলে নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিফটি। আগের ইনিংসে যার নামের পাশে আছে দুর্দান্ত এক শতকও। দুজনের জুটিতে ধীরে ধীরে বড় লিডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
টানা ফিফটির অভ্যাস মুমিনুলের ক্যারিয়ারে নতুন না। ২০১৩ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে টানা ১১ টেস্টে ফিফটি করেছিলেন মুমিনুল। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এমন কীর্তি নেই। আর একটি ম্যাচে ফিফটি করলে বিশ্ব রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলতেন মুমিনুল। টানা ১২ টেস্টে ফিফটির বিশ্ব রেকর্ড তখন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের, পরে তা করেছেন ইংল্যান্ড কিংবদন্তি জো রুটও।
টেস্টে সর্বোচ্চ টানা ৭ ইনিংসে ন্যূনতম ফিফটির রেকর্ড যৌথভাবে ছয়জনের-ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভারটন উইকস ও শিবনারায়ন চন্দরপল, শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারা, ইংল্যান্ডের ক্রিস রজার্স, জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও ভারতের লোকেশ রাহুলের। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি ছিল সাঙ্গাকারা ও উইকসের। সাঙ্গাকারার একটি সেঞ্চুরি ছিল আবার ট্রিপল, সেটিও বাংলাদেশের বিপক্ষে।
বৃষ্টির পর দেখে-শুনে খেলে ফিফটি স্পর্শ করেন মুমিনুল হক। ১০৫ বল খেলে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৫৬ রান করে এই ব্যাটার ফেরায় ভেঙেছে ১০৫ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে টাইগারদের লিড এখন ১৭৯ রানের।
এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। দিনের দ্বিতীয় বলে চার হাঁকালেও দেখেশুনেই খেলছিলেন দুই ওপেনার। কিন্তু আব্বাস আফ্রিদির কাছে পরাস্ত হন জয়। ব্যক্তিগত ৪ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। রিভিউ নিয়েও হয়নি কোনো ফায়দা।
আর ইনিংসের ১১তম ওভারে সাজঘরের পথ ধরেন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম। এবার উইকেট পান হাসান আলি। তার করা বলে ব্যক্তিগত ১০ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে নেন বাংলাদেশি এই ওপেনার। ফলে ২৩ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের শুরুতেই দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে খানিকটা চাপেই পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্বস্তি দিয়েছে দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের জুটি। লাঞ্চ বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম সেশনে তারা তুলেছিল ২ উইকেটে ৮৬ রান।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান যখন লাঞ্চে যায়, তখনো আকাশ খানিকটা মেঘলা। কিন্তু দুই দল যখন মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আলোর স্বল্পতা ও বৃষ্টির কারণে ড্রেসিংরুমেই থাকতে হয়েছে। তারপর প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় সেশনে খেলাই হয়নি।