
X
লা লিগায় ২৯তম শিরোপা জিতে উৎসব করছে বার্সেলোনার ফুটবলাররা-ইন্টারনেট
উত্তাপহীন শিরোপা লড়াইয়ের প্রভাবই যেন পড়ল ক্লাসিকোয়। ক্ষীণ আশাটুকু বাঁচিয়ে রাখার মতো কিছুই করতে পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। নড়বড়ে প্রতিপক্ষকে অনায়াসে হারিয়ে লা লিগা জয়ের উল্লাসে মাতল বার্সেলোনা। ন্যু ক্যাম্পে রোববার রাতে মৌসুমের দ্বিতীয় ক্লাসিকোয় ২-০ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল বার্সা। মার্কাস র্যাশফোর্ডের চমৎকার গোলে এগিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর, ব্যবধান বাড়িয়েছেন ফেররান তরেস।
স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯টি শিরোপা জিতল বার্সেলোনা। তবে, এবারই প্রথম ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে, যা কাতালান ক্লাবটির উৎসবে দিয়েছে নতুন রং। ৩৫ রাউন্ড শেষে ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৯১। ২৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৭।
ম্যাচটির কয়েক ঘণ্টা আগে বাবা হারান কোচ ফ্লিক। তবে পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে ডাগআউটে দাঁড়ান তিনি। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ওই সময়ের এলোমেলো বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মৌসুমেই দলকে লিগ শিরোপা জেতান এই জার্মান কোচ। একই স্বাদ পেলেন টানা দ্বিতীয় মৌসুমে।
শিরোপার সুবাস নিয়ে শুরুটা দারুণ করে বার্সেলোনা। ডি-বক্সের একটু বাইরে তরেস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় তারা, এবং দারুণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালকে ফাঁকি দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন র্যাশফোর্ড। আর এই নিয়ে লিগে সবশেষ ছয় ম্যাচে চারটি গোল করলেন র্যাশফোর্ড। আসরে তার গোল হলো আটটি, মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৪টি।
আর ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার সুযোগও পায়নি রেয়াল। ৯ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল হজম করে তারা, রক্ষণের দুর্বলতার দায়ও আছে যথেষ্ট। বাঁ দিক থেকে আসা ক্রস ডি-বক্সে আন্টোনিও রুডিগারের চ্যালেঞ্জ সামলে দারুণভাবে কাটব্যাক করেন দানি ওলমো, আর ফাঁকায় বল পেয়ে জোরাল শটে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন তরেস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি। এবারের লিগে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের এটি ১৬তম গোল, মৌসুমে সব মিলিয়ে ২১টি।
দুই গোল হজমের তিন মিনিট পর দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিল সফরকারীরা; কিন্তু কাছ থেকে শট লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি গন্সালো গার্সিয়া। ১০ মিনিট পর আরেকবার বার্সেলোনার রক্ষণে ভীতি ছড়ায় রিয়াল; তবে ভিনিসিউসের পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে অহেলিয়া চুয়ামেনির শটও পোস্টের বাইরে যায়। ৩৮তম মিনিটে জয়টা প্রায় নিশ্চিত করে ফেলতে পারতেন র্যাশফোর্ড। কিন্তু তার কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে এক হাত দিয়ে বাইরে পাঠান কোর্তোয়া।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ছয় শটের কেবল একটি লক্ষ্যে রাখতে পারা রেয়াল বিরতির পরও উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারছিল না। ৬৩তম মিনিটে একবার জালে বল পাঠাতে পারেন বেলিংহ্যাম, তবে সঙ্গে সঙ্গেই বাজে অফসাইডের বাঁশি, যা কেবল রেয়ালের হতাশাই বাড়ায়। বাকি সময়েও আশা জাগানিয়া কিছু করতে পারেনি রেয়াল, বরং সময়ের সঙ্গে তারা হয়েছে আরও ধারহীন।
শিরোপা ধরে রাখা নিশ্চিত, তবে অর্জনের এখনও বাকি আছে বার্সেলোনার। দলটির পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, পয়েন্টের সেঞ্চুরি করতে চায় তারা। সেই লক্ষ্যে বাকি তিন ম্যাচে তারা খেলবে আলাভেস, রেয়াল বেতিস ও ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে।