
X
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
দেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি বলেছেন, দেশের খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা ও পাথর ব্যবহারের পর প্রয়োজন অনুযায়ী বাকি অংশ আমদানি করা হবে।
সোমবার দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ও মধ্যপাড়া পাথর খনি পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র-ও পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রী বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে বিদেশি স্বার্থ রক্ষায় আমদানি নির্ভর নীতি অনুসরণ করেছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশীয় রিসোর্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশীয় খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং দেশের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান, দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও খনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া খনিতে উৎপাদিত কয়লার অতিরিক্ত মজুদ সৃষ্টি হয়েছে। খোলা স্থানে সংরক্ষণের কারণে রোদ ও বৃষ্টিতে প্রতিদিন মূল্যবান কয়লার ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপাড়া পাথর খনিতেও দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অবিক্রিত পাথর জমে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দেশীয় পাথর ব্যবহার না করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আমদানিকৃত পাথর ব্যবহার করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপাড়া পাথর খনির বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি উৎপাদন বৃদ্ধি করায় খনিটি দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছিল। তবে উৎপাদিত পাথর বিক্রি না হওয়ায় খনিটি আবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে খনি দুটি পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।