সৌরভের নাটকীয় গোলে ব্রাদার্সকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

লিগ শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর চলতি মৌসুমে ফেডারেশন কাপই ছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের

2026-05-12T20:45:56+00:00
2026-05-12T20:45:56+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সৌরভের নাটকীয় গোলে ব্রাদার্সকে কাঁদিয়ে ফাইনালে মোহামেডান
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ২৬)
জোড়া গোলে মোহামেডানকে ফাইনালে তোলার নায়ক সৌরভ দেওয়ান (মাঝে)- বাফুফে
X

জোড়া গোলে মোহামেডানকে ফাইনালে তোলার নায়ক সৌরভ দেওয়ান (মাঝে)- বাফুফে

লিগ শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর চলতি মৌসুমে ফেডারেশন কাপই ছিল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের প্রধান লক্ষ্য। তবে মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর এক লড়াই শেষে শেষ হাসি হেসেছে সাদা-কালো শিবির।
সৌরভ দেওয়ানের জোড়া গোলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মোহামেডান। এই জয়ে গত চার আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে উঠল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরুতে মোহামেডানকে চাপ দিলেও তা ধরে রাখতে পারেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন। উল্টো পিছিয়ে পড়ে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে দৃষ্টিনন্দন ফ্রি কিকে সমতা টানেন জামাল ভূঁইয়া। তাদের সেই স্বস্তি উবে যায় যোগ করা সময়ে। সৌরভ দেওয়ানের দ্বিতীয় গোলে নাটকীয় জয় পেল মোহামেডান, উঠল ফেডারেশন কাপের ফাইনালে।

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিকালে ফাইনালে ওঠার কোয়ালিফায়ার-২ এ ২-১ গোলে জিতেছে মোহামেডান। আগামী মঙ্গলবার তারা শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বসুন্ধরা কিংসের। গ্রুপ পর্বে দুর্বার ব্রাদার্স কোয়ালিফায়ার-১ এ বসুন্ধরা কিংসের কাছে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল ৪-০ ব্যবধানে। তবু বেঁচে ছিল ফাইনালে ওঠার আশা। মোহামেডানের বিপক্ষে হেরে সে আশাও গুঁড়িয়ে গেল তাদের।

এলিমিনেটরে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটিকে ৩-০ গোলে হারানো মোহামেডানকে দ্বিতীয় মিনিটেই চমকে দিতে পারতো ব্রাদার্স। আলমগীর গাজীর ক্রস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে পেয়ে যান কৌশিক বড়ুয়া। সুজন হোসেনকে পরাস্ত করতে চিপ শট নেন তিনি। কিন্তু সুজন লাফিয়ে হাত ছুঁইয়ে আটকে দেন কৌশিকের প্রচেষ্টা।

সুজন লাফিয়ে বলে হাত ছোঁয়ানোর সময় বক্সের ভেতরে ছিলেন, কিন্তু তার পা পড়ে বক্সের বাইরে। হ্যান্ডবলের জোরাল দাবি তোলে ব্রাদার্সের খেলোয়াড়রা। দলটির অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া অভিযোগ জানাতে ছুটে যান লাইন্সম্যানের দিকে। শেষ পর্যন্ত সহকারীর সাথে কথা বলে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্ত যায় মোহামেডানের পক্ষে। ‘ড্রপ বল’-এর মধ্যে খেলা শুরু হয়। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানালেও খেলা চালিয়ে যায় ব্রাদার্স।

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে বক্সে সৌরভের ওভারহেড কিক ঠিকঠাক হয়নি। একটু পর আরিফের ক্রসে অনেকটা লাফিয়ে সৌরভের নেওয়া হেডও যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে। অবশেষে ৩৮তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেন সৌরভ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো ইনে এমানুয়েল এলিকেকের হেড পাসে হেডেই লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরোয়ার্ড। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচেও জালের দেখা পেয়েছিলেন সৌরভ।

৪২তম মিনিটে সতীর্থের পাস পেয়ে দারুণ পজিশনে থেকে ইনসানের বাম পায়ের শট দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রথমার্ধের যোগ করা সময় বাম দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ইনসান জোরাল শটে বল জালে জড়ানোর আগে বাজে অফসাইডের বাঁশি। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ দেখান অধিনায়ক জামাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও মোহামেডানের রক্ষণে হানা দেয় ব্রাদার্স। স্যামুয়েল ওনুনুইয়ের ক্রস সুজন ফিস্ট করার পর বল উপরে উঠে যায়। পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড শায়েক দোস্ত ওভারহেড কিকের চেষ্টা করলেও বলের সাথে সংযোগ ঠিকঠাক হয়নি।

৪৯তম মিনিটে আলমগীর গাজীর দূরপাল্লার জোরাল শট ড্রপ খাওয়ার পর, দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফিরিয়ে মোহামেডানকে স্বস্তিতে রাখেন সুজন। স্যামুয়েল ৫৬তম মিনিটে নষ্ট করেন সুবর্ণ সুযোগ। শায়েক দোস্তের কাছ থেকে ফিরতি বল বক্সে ভালো জায়গায় পেয়ে অভাবনীয়ভাবে বাইরে মারেন নাইজেরিয়ার এই ফরোয়ার্ড। হতাশায় মুখ লুকাতে দেখা যায় তাকে।

ব্রাদার্সের আক্রমণের ঝাপটা সামলে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে মোহামেডান। ৬৯তম মিনিটে রহিম নিজে চেষ্টা না করে ডান প্রান্তে ফাঁকায় থাকা আরিফকে পাস দিলেও পারতেন। কিন্তু তিনি নিজেই কোনাকুনি শট নেন, বল যায় দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে। ৭৩তম মিনিটে সমতার স্বস্তি ফিরে ব্রাদার্সের তাঁবুতে। বক্সের একটু উপর থেকে জামালের চোখ ধাঁধানো বাঁকানো ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে পড়া সুজনকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়।

অতিরিক্ত সময়ের দিকে ছুটে চলা ম্যাচের গতিপথ বদলে যায় যোগ করা সময়ের শুরুতেই। কর্নারে বল কয়েক ড্রপ খেয়ে ব্রাদার্সের ডিফেন্ডারদের নাকের ডগা দিয়ে চলে যায় সৌরভের পায়ে। ডান পায়ের সাইড ভলিতে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।

জমজমাট লড়াইয়ে শেষের বাঁশি বাজতেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মোহামেডানের মোজাফ্ফর মোজাফ্ফরভের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। নিরাপত্তা বেড়া ডিঙিয়ে দর্শকরাও মাঠে ঢুকে পড়েন। মাঠে প্রবেশ করে পুলিশও। দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বড় কোনো অনাকাঙিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। মোহামেডানের সামনে এখন ফেডারেশন কাপের রেকর্ড ১২টি ট্রফি জয়ী আবাহনীকে ছোঁয়ার হাতছানি।








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy