
X
যেসব বিষয় জেনে রাখা জরুরি
অনেকেই কুরবানি করলেও সবার কুরবানি আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। কেন হয় না? সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনায়। কুরবানি কবুল হবে কার, আর কার হবে না? যাদের কুরবানি কবুল হবে না—
১. নিয়তে ইখলাস না থাকলে
কুরবানি কবুল হওয়ার জন্য একনিষ্ঠতা তথা নিয়ত বিশুদ্ধতা থাকা জরুরি। কুরবানিতে কাউকে শরিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভালোভাবে জেনে-বুঝে অংশীদার নির্বাচন করা। কারণ কোনো শরিকের নিয়ত গলদ হলে কারও কুরবানিই (অন্য শরিকদের কোরবানিও) শুদ্ধ হবে না। কেননা আল্লাহর কাছে কুরবানি রক্ত, মাংস ও হাড় কিছুই পৌঁছায় না বরং পৌঁছে মানুষের নিয়ত তথা তাকওয়া। এ বিষয়টি আল্লাহ তাআলা এভাবে তুলে ধরেছেন—
لَن يَنَالَ اللهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ
‘আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলোর (কুরবানির পশুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের (মানুষের অন্তরের) তাকওয়া (সংযমশীলতা); এভাবে তিনি ওগুলোকে (কুরবানির পশুগুলোকে) তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। এই জন্য যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। আর তুমি সুসংবাদ দাও সৎকর্মশীলদের।’ (সুরা হজ: আয়াত ৩৭)
২. কুরবানির পশুর প্রদর্শনী করলে
কুরবানি হবে শুধু আল্লাহর জন্য। লোক দেখানোর জন্য কিংবা সুনাম-সুখ্যাতির জন্য নয়। মানুষকে দেখানোর জন্য বাজারের বড় বড়, সুন্দর ও দামি পশুই জবাই করলেই কুরবানি হবে না। বরং তাতে ইখলাস থাকতে হবে। তবেই কুরবানি কবুল হবে। কুরবানির পশু প্রদর্শনীর ইচ্ছা থাকলে এ কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কার কুরবানি আল্লাহর কাছে কবুল হবে তা-ও ওঠে এসেছে কুরআনের বর্ণনায়—
إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তো মুত্তাকি (পরহেজগার ও সংযমীদের) কুরবানিই কবুল করে থাকেন।' (সুরা মায়েদা: আয়াত ২৭)
৩. কুরআন-সুন্নাহর বিধানের লঙ্ঘন হলে
আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর বিধি-বিধান অনুসরণ করা ছাড়া কোনোভাবেই কুরবানি কবুল হবে না। বিষয়টি আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে এভাবে তুলে ধরেছেন—
فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَّلاَ يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدا
‘যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে; সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহফ: আয়াত ১০)
সুতরাং যারা কুরবানি করবেন, তাদের কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনার প্রতি লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। যারা শুধু বছরজুড়ে এ পশু জবাই করে গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি দেয়; তাদের কুরবানিও গ্রহণযোগ্য হবে না।
৫. গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করলে
যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্য ছাড়া কুরবানি না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানি করে তাহলে তার কুরবানি সহিহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরিকদের কুরবানিও কবুল হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাজিখান ৩/৩৪৯)
৬. অবৈধ টাকায় কোরবানি করলে
হারাম টাকা দিয়ে কেউ কুরবানি করলে তার কুরবানি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি শুধু পবিত্রতাই গ্রহণ করেন...।’ (তিরমিজি ২৯৮৯)
তাছাড়া কুরআনুল কারিমে হালাল সম্পদ থেকে ব্যয় করার নির্দেশ এসেছে এভাবে—
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡفِقُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا کَسَبۡتُمۡ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় কর তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে...’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৬৭)