ইরানে হামলার সঙ্গে সৌদি আরবও জড়িত

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাবে ইরানে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে দেশটি বলে জানিয়েছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা

2026-05-13T09:37:32+00:00
2026-05-13T09:37:32+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইরানে হামলার সঙ্গে সৌদি আরবও জড়িত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ এএম   (ভিজিট : ৫৯)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সময় সৌদি আরবের চালানো হামলার জবাবে ইরানে একাধিক গোপন সামরিক হামলা চালিয়েছে দেশটি বলে জানিয়েছেন দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুই ইরানি কর্মকর্তা। প্রকাশ না পাওয়া এই হামলাগুলো সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মাটিতে চালিয়েছে। 

বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, এতে বোঝা যাচ্ছে যে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বি ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষায় সৌদি আরব আগের চেয়ে অনেক বেশি সাহসি অবস্থান নিয়েছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী এসব হামলা চালায়। এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে হামলার জবাবে পালটা হামলা হিসেবে এগুলো চালানো হয়েছিল।

তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক থাকা সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধের মধ্যে এমন হামলা হয়েছে, যা মার্কিন নিরাপত্তা ছাতাকেও দুর্বল দেখিয়েছে।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানোর পর শুরু হওয়া যুদ্ধ ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলকে জড়িয়ে যায়।

এরপর থেকে ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু মার্কিন ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যও ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো পালটা জবাব দেওয়া শুরু করেছে।

তবে সৌদি আরব ও আমিরাতের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। আমিরাত তুলনামূলক কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চেয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকাতে চেয়েছে এবং রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা কমানো, সংযম বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পক্ষে।

ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, সৌদি আরব হামলার বিষয়টি ইরানকে জানায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক কূটনৈতিক যোগাযোগ হয় এবং সৌদি আরব আরও পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরই উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরি হয়।

দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বি ইরান ও সৌদি আরব—মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শিয়া ও সুন্নি শক্তি—বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে।

লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সৌদি আরব যুদ্ধের মধ্যেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যেতে পেরেছে। ফলে উপসাগরীয় অন্য অনেক দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সৌদি মালিকানাধীন আরব নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল লিখেছেন, ইরান ও অন্যরা যখন সৌদি আরবকে ধ্বংসের আগুনে টেনে নিতে চেয়েছিল, তখন আমাদের নেতৃত্ব জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য ধৈর্য ধরার পথ বেছে নিয়েছে।

মার্চের ১৯ তারিখে রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

এর তিন দিন পর সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।

পশ্চিমা সূত্র বলছে, মার্চের শেষ দিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আরও কঠোর অবস্থানের হুমকির পরই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সমঝোতা গড়ে ওঠে।

২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। কিন্তু ১ থেকে ৬ এপ্রিলের মধ্যে সেই সংখ্যা নেমে আসে ২৫-এর কিছু বেশি।

পশ্চিমা সূত্রের দাবি, যুদ্ধবিরতির আগে সৌদি আরবে যেসব হামলা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই ইরান থেকে নয়, বরং ইরাক থেকে চালানো হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সরাসরি হামলা কমিয়ে দিলেও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় ছিল।

১২ এপ্রিল সৌদি আরব ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে হামলার প্রতিবাদ জানায়।

এপ্রিলের ৭-৮ তারিখে যুদ্ধবিরতির শুরুতেই আবারও সৌদি আরবে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ আসে। এতে রিয়াদ ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পালটা পদক্ষেপ বিবেচনা করে। একই সময়ে পাকিস্তান সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সংযমের আহ্বান জানায়।

সূত্র: রয়টার্স





  বিষয়:   মধ্যপ্রাচ্য  ইরান  সৌদি আরব 



Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy