
X
নেইমার জুনিয়র ও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি-ফাইল ছবি
আগামী ১৮ মে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। তার মাত্র কয়েকদিন আগে সেলেসাও ভক্তদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নেইমার কি ফিরছেন? ব্রাজিলের রেকর্ড গোলদাতা নেইমারকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বের এই তুমুল আলোচনার মধ্যেই মুখ খুললেন ব্রাজিলিয়ানদের ইতালীয় বস কার্লো আনচেলত্তি।
তার সাফ কথা, নেইমারের দলে ফেরা বা না ফেরা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে খোদ নেইমারের নিজের ওপর। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে নেইমারকে জাতীয় দলে দেখা যায়নি। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ব্রাজিলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও মতভেদ আছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান তাকে বিশ্বকাপে চান, আর ৩৪ শতাংশ আছেন বিপক্ষে।
এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেইমারের ডাক পাওয়া কেবল তার ওপরই নির্ভর করছে। মাঠে সে কেমন করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত হবে। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে প্রতিভা ও শারীরিক সক্ষমতা, দুটোই বিচার করতে হয়, কিন্তু নেইমারের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আমাদের শুধু দেখতে হবে সে শারীরিকভাবে কতটা প্রস্তুত। এটা তার হাতেই, আমার হাতে নয়।’
পাশাপাশি ৪১ বছর বয়সি অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার থিয়াগো সিলভাকেও দলের রাডারে রেখেছেন আনচেলত্তি। পোর্তোর হয়ে দারুণ মৌসুম কাটানো সিলভার নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে কোচ বলেন, ‘নেতৃত্ব দেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দলে আলিসন, কাসেমিরো, মার্কিনহোস বা রাফিনহার মতো নেতা আছে যারা কথা কম বললেও কাজের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করে।’
রিয়াল মাদ্রিদে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বিশ্বসেরা বানানো আনচেলত্তি এবার ব্রাজিলের জার্সিতে তাকে জ্বলে উঠতে দেখতে চান। জাতীয় দলে ভিনির ওপর বিশাল প্রত্যাশার চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হলো তার কাঁধ থেকে সেই বাড়তি চাপের বোঝা কমিয়ে দেয়া, যাতে সে নিজের আনন্দ আর প্রাণশক্তি নিয়ে খেলতে পারে। তবে আমরা কোনো একজন ‘নাম্বার ওয়ান’ তারকার ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না। বিশ্বকাপ জিততে হলে আমাদের দল হিসেবে ভাবতে হবে।”
৬৬ বছর বয়সি এই ইতালীয় কোচ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ম্যানেজার। পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগেই শিরোপা জয়ের রেকর্ড তার দখলে। তবে এখন তার একমাত্র লক্ষ্য ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা এনে দেওয়া। বয়সে ছাড়িয়ে গেলেও তার উদ্যম কমেনি। আনচেলত্তি বলেন, ‘ফুটবল ছাড়া আমি বাঁচতে পারতাম না। মাঠের কাজ শেষে বাসায় গিয়েও আমি টেলিভিশনে ফুটবল দেখি, এটা আমার কাছে সিনেমার মতো উপভোগ্য।’
ব্রাজিলিয়ানদের হলুদ জার্সির প্রতি আবেগ এবং তাদের পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাজিলিয়ান স্পিরিট খুব পছন্দ করি। ইউরোপ যা হারিয়েছে, ব্রাজিল তা আজও বজায় রেখেছে, তাদের পরিবার ও ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। আমি নিজেও একজন ক্যাথলিক এবং বিশ্বাস করি ধর্ম মানুষকে ভালো পথে চলতে শেখায়।’
বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে ৫টি জয় আর ৩টি হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশ্বকাপের মূল আসর নিয়ে আশাবাদী আনচেলত্তি। এর আগে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইতালির সহকারী কোচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তিনি। ৩২ বছর পর আবার সেই আমেরিকাতেই ফিরছেন ব্রাজিলের কোচ হয়ে। সেইবার ইতালির হয়ে ব্রাজিলের কাছে হেরেছিলেন, এবার ব্রাজিলের হয়ে ইতিহাস গড়তে চান।
ইনজুরি কিছুটা চিন্তায় রাখলেও (এদের মিলিতাও ও রদ্রিগো নেই, এস্তেভাও সংশয়ে) আনচেলত্তি বিশ্বাস করেন, ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর রসদ তার দলে আছে। গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। আনচেলত্তির সংক্ষিপ্ত এবং স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের প্রতিভা আছে, আছে জয়ের ক্ষুধা। আমি নিশ্চিত আমরা একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ উপহার দেব।’