
X
ওয়েলসের কোচ ক্রিস কোলম্যান-ফাইল ছবি
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তুরস্কের কোনিয়া থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকায় ফিরেছেন। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়েই ময়মনসিংহে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক প্রকল্পের কাজে গেলেন। বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইলেও মন্ত্রীর ঢাকায় ফিরতে বিলম্ব হবে তাই দুপুরের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে বৃহস্পতিবার পরিবর্তে শুক্রবার হবে সভা। মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে।
বাংলাদেশের ফুটবল লিগ পর্যবেক্ষণ করতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কর্মকর্তারা এসেছেন। তারাও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তাদের সূচি আজ শুক্রবার সকালে। বিদেশি প্রতিনিধিবর্গের সঙ্গে আলোচনার পরই মন্ত্রণালয়ে কোচ ইস্যুতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে বসবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী প্রধান কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ওয়েলসের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান। গ্যারেথ বেলদের সাবেক কোচের বেতন বাফুফের সাধ্যের বাইরে। তাই বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাফুফেকে আর্থিক সহায়তা দিলে কোলম্যানকে হামজাদের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেবে বাফুফে। সহায়তা না পেলে অন্য একজন হবেন সেটাও কাল মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা।
বাফুফে দেশের শীর্ষ ফেডারেশনের একটি। হামজা আসার পর অনেক পৃষ্ঠপোষকতা আসছে। এরপরও কোচের জন্য সরকারের সহায়তা চাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা চলছে। কারণ বাফুফের নির্বাহী কমিটির অনেকেই আর্থিকভাবে অত্যন্ত স্বচ্ছল। কয়েকজন মিলে কোচের বেতনে সহায়তা করা কঠিন বিষয় নয়। বাফুফে কোচের জন্য সরকারের মুখাপেক্ষী হলে দাবা, আরচ্যারি, শুটিং, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্সের মতো আরো সকল সম্ভাবনায় খেলা মন্ত্রণালয়ের কাছে সমান সহযোগিতা প্রত্যাশা করবে। যে চাহিদা মেটানো অনেক কঠিন হবে মন্ত্রণালয়ের জন্য।
ক্রিস কোলম্যান বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী। আবার বাফুফেও তাকে চায়। এই দুই পক্ষের চাওয়ার মধ্যে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে আর্থিক বিষয়। কোলম্যান তার পুরো কোচিং স্টাফসহ আসলে বাফুফেকে প্রতি মাসে ৬০-৭০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে হবে। যা ফেডারেশনের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। কোলম্যানের মতো একজন কোচ বাংলাদেশে কাজ করতে চেয়েছেন এই সুযোগও হাতছাড়া করতে চায় না বাফুফে। তাই নিজেরাই অপারগতা প্রকাশ করে এখনই কোলম্যানের সম্ভাবনা শেষ করতে চায় না।
বুধবারের সভায় আলোচনা হয়েছে, কোলম্যানের চাহিদা ও বাফুফের সীমাবদ্ধতা নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল অবহিত করবেন। বাফুফে সভাপতি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে আবার জাতীয় দল কমিটিকে অবহিত করবেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তুরস্কের কোনিয়া থেকে যুব সম্মেলন শেষ করে আগামীকাল সকালে দেশে ফিরবেন। কোনো কারণে কোলম্যান সম্ভব না হলে পরবর্তীতে অন্য কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসবে ফেডারেশন। আগামীকাল আবার জাতীয় দল কমিটির আরেকটি সভা হতে পারে।
কোলম্যানকে কোচ করতে হলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাফুফেকে প্রতি মাসে একটি বড় অংশ অনুদান দিতে হবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কোচের জন্য বাফুফেকে সহায়তা করার কথা বলেছিলেন। তবে প্রতি মাসে যদি অঙ্ক বেশ বড় হয় সেটা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্যও কঠিন। ফুটবল জনপ্রিয় খেলা ফলে পৃষ্ঠপোষকতা ও ফিফা-এএফসি’র সহায়তা রয়েছে। অন্য খেলাগুলো যেখানে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভালো কোচ নেই, খেলোয়াড়রা বিদেশে যেতে পারেন না। ফুটবলের পেছনে মাসিক অনেক ব্যয় করলে তখন অন্য খেলাগুলোর উন্নয়নে মন্ত্রণালয় কিংবা এনএসসি’র কাজ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কোলম্যান অনেক বড় মাপের কোচ। তিনি আসলে বাংলাদেশের ফুটবলের ভাবমূর্তি বাড়বে ও বিশ্ব ফুটবলেও আলোচনায় থাকবে। এই দৃষ্ঠিকোণ থেকে বাফুফে কর্তারা কোলম্যানের ব্যাপারে আন্তরিক হলেও আজ মুদ্রার অন্য পিঠ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী এক বছর সাফ ছাড়া নির্ধারিত তেমন কোনো সূচি নেই। এই সময়ে কোচিং স্টাফের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা ব্যয় কতটুকু সমীচীন এমন কথাও উঠেছে। বাংলাদেশের ফুটবলে অবকাঠামো, ফুটবলার পাইপলাইনসহ অনেক বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে। এত স্বল্পতা ও সংকটের মধ্যে শুধু কোচের পেছনেই এত ব্যয় করলে ফুটবলের প্রকৃত উন্নয়ন বা ফলাফল আদৌ আসবে কি না সেটাও আলোচনা হয়েছে আজকের সভায়।