প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২:১১ পিএম (ভিজিট : ৪৬১)

X
বেতাগীতে একই রাতে ২ বাড়িতে ডাকাতি: গুলিবিদ্ধ ১, গ্রেপ্তার ৩
বরগুনার বেতাগীতে একই রাতে দুটি পৃথক বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের গুলিতে এক গৃহকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্য একটি বাড়িতে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে আরও দুজনকে।
ডাকাতরা দুই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ মে) রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে বেতাগী সদর ইউনিয়নের বেইলিব্রিজ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য খলিলুর রহমানের ঘরে প্রথম ডাকাতি সংঘটিত হয়।
সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করলে খলিলুর রহমানের পুত্র মো. রিফাত বিন রিমন (২৫) প্রায় ১০ জন ডাকাতের বিরুদ্ধে একাই বীরত্বের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ডাকাতদের সাথে রিমনের ধস্তাধস্তি ও লড়াই চললে একপর্যায়ে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে রিমন পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর ডাকাত দল ঘর থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ রিমনকে প্রথমে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে বরিশাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
একই রাতে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের উত্তর হোসনাবাদ গ্রামে আলতাফ ফকিরের ঘরে দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ডাকাত দল ঘরে ঢুকে গৃহকর্তা আলতাফ হোসেন (৬৫) ও গৃহকর্ত্রী ফরিদ বেগমকে (৫৫) পিটিয়ে জখম করে। এই বাড়ি থেকে ডাকাতরা নগদ ১ লক্ষ টাকা এবং ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতির ঘটনার পর বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য খলিলুর রহমানের বাড়ি পরিদর্শন করেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। শনিবার সকালে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন হোসনাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের উত্তর হোসনাবাদ গ্রামের মোতালেব খলিফার পুত্র সগীর আলম খলিফা (৪৫) ও তার পুত্র সৌরভ আলম খলিফা (১৮), এবং বেতাগী শহরের চা বিক্রেতা হিরু মিয়ার পুত্র অটোচালক সাইফুল (২০)।
বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার বলেন, ডাকাতির ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা দায়ের করা হয়নি, তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।