
X
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সুটিয়াকাঠি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মিয়ারহাট বন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গতকাল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পরপরই নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলেও সন্ধ্যা নদী ও সরু সড়কের কারণে আগুন নির্বাপক গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরে নেছারাবাদের একটি ও কাউখালীর একটি ভাসমান অগ্নি নির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ছিল প্লাস্টিক ও রশির গুদাম, মুদি ও মনোহারি দোকান, সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও বিভিন্ন দোকানে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল আগুনে পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাহ্য পদার্থ বেশি থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় লোকজন প্রাণপণ চেষ্টা করেও শুরুতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মানবেতর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। হঠাৎ আগুনে সব হারিয়ে তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে দোকান দাঁড় করিয়েছিলাম। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন দোকানও নেই, আবার ঋণের কিস্তিও দিতে হবে। পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবো বুঝতে পারছি না।”
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “আগুনে শুধু দোকান পুড়েনি, আমাদের স্বপ্নও পুড়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।”
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ পুনর্বিন্যাস এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।