
X
প্রতীকী ছবি
আয়কর রিটার্ন যদি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়, অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তবে এ ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই—শান্তভাবে বিষয়টি বুঝে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমেই মনে রাখতে হবে, নিরীক্ষায় পড়া মানেই অতিরিক্ত কর দিতে হবে—এমন নয়। বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অনেক রিটার্ন বাছাই করা হয়, ফলে সঠিকভাবে কর দেওয়া করদাতারাও অডিটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
কতজন করদাতা নিরীক্ষায়
চলতি করবর্ষে প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ হাজার এবং দ্বিতীয় ধাপে ৭২ হাজারের বেশি রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি অটোমেটেড সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ১ কোটির বেশি টিআইএনধারী থাকলেও, তার একটি অংশ নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন। নিরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো—করদাতারা সঠিক তথ্য দিয়েছেন কি না এবং যথাযথ কর পরিশোধ করেছেন কি না তা যাচাই করা।
অডিটে পড়লে করণীয়
আপনার রিটার্ন যদি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়, তাহলে শুরুতেই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে আপনাকে নির্দিষ্ট তারিখে শুনানিতে ডাকবেন।
সেই শুনানিতে আপনাকে বা আপনার প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হবে। সেখানে আপনার দেওয়া আয়-ব্যয়ের তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র উপস্থাপন করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা ব্যাখ্যাও চাইতে পারেন কর কর্মকর্তা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুনানির সুযোগ না দিয়ে অতিরিক্ত কর আরোপ করা যায় না। আর কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনাকে জানানো হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন
রিটার্নে উল্লেখ করা তথ্যগুলোর সমর্থনে নিচের কাগজপত্র আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা ভালো:
বেতন সংক্রান্ত সনদপত্রব্যাংক হিসাবের বিবরণীএফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের নথিজমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাবঋণ সংক্রান্ত দলিলকর পরিশোধের চালান ও উৎসে কর কর্তনের প্রমাণব্যাংক লেনদেন পরিষ্কার রাখুন
ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা জমা বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে তার উৎস ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। পরিবার থেকে পাওয়া অর্থ, সম্পদ বিক্রি, ঋণ কিংবা ব্যবসার লেনদেন—যাই হোক না কেন, তার প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি।
আয় ও জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য
আপনার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যেন অস্বাভাবিক কোনো পার্থক্য না থাকে, তা খেয়াল করুন। কম আয় দেখিয়ে বড় সম্পদ অর্জন বা বেশি ব্যয় দেখালে প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই আয়, সঞ্চয় ও সম্পদের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল হলে কী করবেন
রিটার্নে কোনো ভুল থাকলে তা গোপন না করে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিন। হিসাবের ত্রুটি, তথ্য বাদ পড়া বা টাইপিং ভুল—যে সমস্যাই হোক, তা স্বীকার করে সংশোধনের সুযোগ আছে কি না জেনে নিন।