
X
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে উচ্ছ্বসিত মুশফিকুর রহিম-ইন্টারনেট
৯১ রান নিয়ে চা বিরতিতে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরি তখন শুধু সময়ের অপেক্ষা! কিন্তু বিরতির পর সেই অপেক্ষাটাই যেন দীর্ঘ হয়ে ওঠে। ৯৮ রানে পৌঁছানোর পর ৭ বল ডট খেলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান।
মোহাম্মদ আব্বাসের বলটি সীমানার বাইরে পাঠিয়ে তুলে নেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি। আর সেই সঙ্গে মুমিনুল হককে ছাড়িয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান হয়ে ওঠেন মুশফিক। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতার আরেক নাম যেন মুশফিক। বয়স, প্রতিপক্ষ কিংবা সময়—কিছুই যেন থামাতে পারছে না তার রান করার ক্ষুধাকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করে আবারও বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নিজের নামটাকেই সবচেয়ে ওপরে তুলে আনলেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ১৪ টেস্ট সেঞ্চুরি নিয়ে সবার ওপরে এখন তিনিই।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের প্রথম সেশন বাদ দিলে বাকি সেশনগুলোতে আধিপত্য দেখিয়েছে স্বাগতিকরা। টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ ওভারে মুমিনুল আউট হওয়ার পর দিনের খেলা শেষ হয়। সোমবার নতুন দিন শুরু থেকেই ভালো কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত চা বিরতির কিছুক্ষণ পর পেলেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক এখন মুশফিক। তার সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১৪। এতদিন ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে যৌথভাবে মুমিনুলের সঙ্গে শীর্ষে ছিলেন তিনি। এক সময় মুশফিকই ছিলেন বাংলাদেশের একক সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান। পরে তাকে ছাড়িয়ে যান মুমিনুল। তবে সিলেটে আবারও সেই আসন নিজের করে নিলেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
মুশফিকের ইনিংসটি এসেছে দলের কঠিন এক সময়ে। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের লড়াইয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে পথ দেখানোর দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। সোমবার সকালের শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপের মধ্যেই নিজের চিরচেনা ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রণে ইনিংস গড়েন মুশফিক। নাজমুলের বিদায়ের পর লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১২৩ রানের জুটি। লিটন আউট হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। এরপর তাইজুলকে পাশে রেখে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে ফেলেন বাংলাদেশের সেরা এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
৮০ ওভার শেষে দ্বিতীয় নতুন বল নিয়েও কিছু করতে পারছিলেন না পাকিস্তানের পেসাররা। ৮৫তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের বল অনায়াসে সীমানায় পাঠিয়ে মুশফিক পৌঁছে যান দারুণ এক অর্জনে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে চমৎকার সেঞ্চুরিতে মুমিনুলকে স্পর্শ করেছিলেন মুশফিক। ঢাকা টেস্টেই মুশফিককে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মুমিনুল। কিন্তু ৯১ রান করে আউট হয়ে যান বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটার। ফলে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা আটকে থাকে ১৩-তে।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৭৮ বলে মুশফিক স্পর্শ করেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরি করার পথে মুশফিক স্পর্শ করেছেন ১৬ হাজার আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকও। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।
৩৮ বছর বয়সেও যেভাবে ফিটনেস, মনোযোগ আর নিবেদন ধরে রেখেছেন, তাতে মুশফিক যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নির্ভরতার আরেক নাম হয়ে উঠেছেন। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়েও তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ক্ষুধাটা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। বরং নতুন নতুন মাইলফলক ছুঁয়ে নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার যাওয়ার মিশনে আছেন বাংলোদেশের উইকেট কিপার এই ব্যাটার।