
X
সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত-ইন্টারনেট
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। সিলেট টেস্টে পাঁচ দিন ধরেই দেখা গেছে রোমাঞ্চকর ক্রিকেট। দক্ষতা, মানসিক দৃঢ়তা ও ধৈর্যের পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। তবে পঞ্চম দিনের প্রথম ঘণ্টায় বেশ চাপে ছিল বাংলাদেশ।
যদিও পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পড়ার পর দ্রুতই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় টাইগাররা। দিনের শুরুর সেই কঠিন সময়ের আবেগকে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলেই মন্তব্য করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বুধবার পঞ্চম দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। নাহিদ রানার বলে কয়েকবার সুযোগ তৈরি হলেও উইকেট মিলছিল না।
তরুণ পেসার চাপ তৈরি করলেও তাসকিন আহমেদ ছিলেন কিছুটা ছন্দহীন। তার বলেই দ্রুত রান তুলছিল পাকিস্তান। এর সঙ্গে ছিল মিসফিল্ডিংয়ের হতাশাও। ৯১তম ওভারে আক্রমণে আনা হয় তাইজুল ইসলামকে। এসেই চাপ তৈরি করেন অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি স্পিনার। এর মধ্যেই দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেন নাহিদ। তার বাউন্সারে টপএজ করেন সাজিদ খান। ক্যাচ নিতে ছুটে যান লিটন দাস ও শর্ট লেগে থাকা তাইজুল—কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই বলের নাগাল পাননি। পরে দেখা যায়, লিটন চিৎকার করে তাইজুলকে বলের পেছনে যেতে বলছিলেন, আর তাইজুল ভেবেছিলেন লিটনই ক্যাচটি নেবেন।
এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরও দুই প্রান্ত থেকে চাপ ধরে রাখেন নাহিদ ও তাইজুল। অবশেষে ৯৬তম ওভারে আসে ব্রেকথ্রু। এরপর মাত্র ১০ বলের মধ্যেই বাকি দুই উইকেট তুলে নেন শরিফুল ইসলাম ও তাইজুল। তাতেই পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে, আর বাংলাদেশ জয় পায় ৭৮ রানে।
আর ম্যাচ শেষে সেই কঠিন এক ঘণ্টার অভিজ্ঞতা নিয়ে শান্ত বলেন, ‘শেষ এক ঘণ্টার ইমোশনটা ব্যাখ্যা করা কঠিন। কারণ সত্যি বলতে ওরা খুব ভালো ব্যাটিং করছিল। আমরা একটু চাপেও পড়ে গিয়েছিলাম। তবে একটা জিনিস আমি বলব, আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর তুলনায় এখন আমরা ধীরে ধীরে ইমোশন নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্যানিক না করার জায়গায় উন্নতি করেছি। যদিও এই জায়গাটাতে এখনও আরও উন্নতির দরকার আছে। বড় দলগুলো হয়তো এই পরিস্থিতিতে আরও শান্ত থাকে। তবে আমাদেরও উন্নতি হয়েছে। এই জায়গা থেকে আমি অধিনায়ক হিসেবে খুশি।’
শান্তর কাছে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই দুই টেস্ট বিশেষ হওয়ার আরও কারণ আছে। মিরপুর ও সিলেটে পুরো ১০ দিন খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ, যা অতীতে খুব একটা দেখা যায়নি। শান্তর কাছে এটি গর্বের, ‘আমরা পুরো ১০ দিনে দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে পেরেছি। এটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। কারণ অতীতে আমরা পাঁচ দিন ধরে টেস্ট ক্রিকেট খুব একটা খেলিনি। তাই এটাও উন্নতির একটি বড় জায়গা। পুরো দল হিসেবে আমরা খেলতে পেরেছি। প্রত্যেক খেলোয়াড় যেভাবে কঠোর পরিশ্রম করেছে—ব্যাটসম্যান, বোলার, যারা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি, কোচিং স্টাফ, দলের সঙ্গে যারা সহায়তার দায়িত্বে ছিল—সবারই অবদান ছিল। সবাই চেয়েছিল আমরা যেন আবারও এমন একটি ভালো ফল করতে পারি।’
ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। সিলেটে সফরকারীরা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ হাতছাড়া হয় তাদের। শান্ত মনে করেন, এই সাফল্যের পেছনে ছিল পুরো দলের পরিশ্রম, ‘প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচই জিততে পারলে ভালো লাগে। তার মধ্যে যদি এভাবে দাপট দেখিয়ে, এমন একটি কোয়ালিটি দলের বিপক্ষে জেতা যায়, তাহলে সেটা অবশ্যই গর্বের বিষয়। এর পেছনে অনেক পরিশ্রম ছিল। প্রত্যেক খেলোয়াড়ই প্রস্তুতি নিয়েছে, কষ্ট করেছে এবং মাঠে গিয়ে দলের জন্য খেলার চেষ্টা করেছে। কেউ কেউ ব্যর্থ হয়েছে, আবার কেউ দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছে। তবে আমাদের একটাই চিন্তা ছিল—কীভাবে এই দুটি ম্যাচ জেতা যায়। সেই জায়গা থেকে আমি বলব, সবার পরিশ্রম বিফলে যায়নি। এখান থেকে আমাদের সামনের দিকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, এখনও কিছু কিছু জায়গা আছে যেখানে আমরা ফাইন টিউনিং করে উন্নতি করতে পারি। সেটা করতে পারলে দল আরও ভালো অবস্থানে যাবে।’
সিলেটে উপস্থিত দর্শকদের সমর্থনের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক, ‘গ্যালারিতে যে কয়েকজন দর্শক ছিল, তারা যেভাবে সমর্থন দিয়েছে, এজন্য অবশ্যই তাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। তারা টেস্ট ম্যাচেও দারুণভাবে দলকে সমর্থন করেছে। আজ একটা সময় দেখছিলাম, যখন উইকেট পড়ছিল না, তখন গ্যালারি থেকেই আমরা সমর্থন পাচ্ছিলাম—যত কম মানুষই থাকুক না কেন। এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। আমি বলব, টেস্ট ক্রিকেটে দর্শক কম বা বেশি যাই হোক, তারা খেলার মোমেন্টামটা বুঝতে পেরে আমাদের সেই সমর্থনটা দিয়েছে। তাই তাদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ থাকল। এই কৃতজ্ঞতাটা তাদের প্রাপ্য।’