
X
শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন নেইমার।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল দলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণার পর, চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। সঙ্গী ব্রুনা বিয়ানকার্দি ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে মুহূর্তটি উদযাপনের আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন এই তারকা। ব্রাজিলের সফলতম গোলস্কোরার বললেন, তখন লম্বা সময় কেঁদেছেন তিনি।
গত সোমবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নেইমারকে দলে রাখা হবে কি না, সেটা নিয়েই সবার কৌতূহল ছিল বেশি। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম ঘোষণা মাত্র উল্লাসে-গর্জনে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটে ছিটকে পড়ার পর, প্রথমবার জাতীয় দলে ফিরলেন ১২৮ ম্যাচ খেলা তারকা।
নাম ঘোষণার মুহূর্তে সঙ্গী বিয়ানকার্দি ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে নিজের কান্নার ভিডিও পরদিন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে নেইমার লেখেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন ও সুখের দিনগুলির একটির দৃশ্য ইতোমধ্যেই ইউটিউব চ্যানেলে রয়েছে, ধন্যবাদ, ব্রাজিল।”
এবার ক্লাবের সান্তোস টিভিতে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী চোট থেকে ফিরে আসার কঠিন যাত্রার কথা স্মরণ করলেন নেইমার। “আমি বেশ কয়েক ঘন্টা ধরে কেঁদেছি, এখানে আসাটা সহজ ছিল না। আমার নাম ঘোষণার পর মনে হলো, যতকিছু (প্রতিকূলতা) পেরিয়ে এসেছি এবং এতসব প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছে।”
সৌদি ক্লাব আল হিলালে চোট জর্জরিত অধ্যায় শেষে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার আশায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। আবার জাতীয় দলে ফেরার ক্ষেত্রে এই ক্লাবের বড় ভূমিকা দেখছেন তিনি।
“আপনাদের আগেও যেমনটা বলেছি, এখানে ফিরে এসে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। আসলে এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার ডাক পাওয়াটা শুধু আমার জন্য নয়, এটা ছিল সেই সব মানুষের জন্য যারা এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন, যারা মাঠে ও মাঠের বাইরে আমার সঙ্গে ছিলেন, আমাদের নিরাপত্তা, শরীর ও খাবারের খেয়াল রেখেছেন।”
তারকাখ্যাতি ও জাতীয় দলের হয়ে রেকর্ডের পরও নেইমার জানেন, বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়াটা সহজ হবে না। আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনো খেলোয়াড়ের অতীত ইতিহাস বিশেষ সুবিধার নিশ্চয়তা দেবে না।
তবে নেইমার আশাবাদী। সবার প্রতি আবার কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দলের ঐক্যের কথা বললেন সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজি ফরোয়ার্ড। “সমর্থনের জন্য, সবসময় আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ। ক্যারিয়ার জুড়ে সমর্থনের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাতেই আমি এখানে এসেছি। ষষ্ঠ শিরোপার দিকে এগিয়ে চলা এই ব্রাজিল দলে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ আছি।”