
X
ছাত্রলীগ নেতা আশিক
নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় থানার এক এএসআইকে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা রাসেল আহম্মেদ আশিকের বিরুদ্ধে। বুধবার (২০ মে) মুঠোফোনে রাণীনগর থানার এএসআই লতিফকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় এসকে নাহিদ (২৬) নামে ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের পর নাহিদকে মারধরের অভিযোগ তুলে এএসআই লতিফকে ফোনে হুমকি দেন আশিক।
অভিযুক্ত রাসেল আহম্মেদ আশিক নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত ২ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, আশিক এএসআই লতিফকে প্রশ্ন করেন—মামলা ছাড়া নাহিদকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কার নির্দেশে তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তারের পর নাহিদের হাতে ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এক পর্যায়ে উত্তেজিত কণ্ঠে আশিক বলেন, “আমরা কি এলাকায় ফিরবো না? আপনাকে আবার রাণীনগরে নিয়ে আসা হবে।” এছাড়া তিনি নিজেকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন হুমকি দেন বলেও অডিওতে শোনা যায়।
অডিওতে আরও শোনা যায়, আশিক এএসআই লতিফকে এক ঘণ্টার মধ্যে তথ্য দেওয়ার আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। এ সময় অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায়।
জবাবে এএসআই লতিফ তাকে ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং হুমকির বিষয়টি থানার কর্মকর্তাদের জানানো হবে বলে জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এএসআই লতিফ বলেন, “নাহিদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ওসি স্যারসহ আমাকে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়েছে। আমার পরিবার নিয়েও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”
তবে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, “লতিফের কাছে শুধু জানতে চাওয়া হয়েছে কার নির্দেশে নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হুমকি বা গালিগালাজের বিষয়টি শুনিনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নাহিদকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, থানার ভেতর ও হাজতখানায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আদালতেও আসামিদের জিজ্ঞাসা করা হয় কোনো নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না।
গ্রেপ্তার হওয়া এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। সোমবার বিকেলে বাজারে যাওয়ার পথে তাকে আটক করে পুলিশ।
নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার অভিযোগ করেন, আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পরদিন দেখা করতে গিয়ে হাতে, নাকে ও গলায় রক্তের চিহ্ন দেখেছেন বলে দাবি করেন তিনি।