
X
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের পর ক্রিকেটারদের ঘষেমেজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করা হবে, জানালেন বিসিবি প্রধান তামিম ইকবাল।
প্রশ্নটা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে। তামিম ইকবালের উত্তর, তিনি জাতীয় দল নিয়ে মাথাও ঘামান না! যেসব নিয়ে তার ভাবনা ও পরিকল্পনা, সেগুলোর মধ্যে সবকিছুর ওপরে তার কাছে হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের পর ক্রিকেটারদের ঘষেমেজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি করতে এইচপিকে ঢেলে সাজাতে চান বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান।
পাকিস্তানকে টানা দুবার হোয়াইটওয়াশ করে আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে পাচ নম্বরে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এটি। তামিমের কাছে জানতে চাওয়া হয় এটির প্রতিক্রিয়া। বোর্ড প্রধান সব কৃতিত্ব দিলে দল সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
তিনি বলেন,‘ আমি নিশ্চিত যে টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো করছে। এখানে আসলে আমার অবদান নেই। আমি অন্য দায়িত্বগুলো দেখছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিয়ে আমি কোনো ইনপুট দিই না। এসব নিয়ে মাথাও ঘামাই না। অন্য দায়িত্বগুলোই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশি। ক্রিকেটারদের কীভাকে নতুন নতুন ফ্যাসিলিটিজ দেব, অন্য জায়গাগুলো সঠিক পথে হচ্ছে কি না, প্রক্রিয়াগুলো ঠিক করে দেওয়া, এইচপিকে নতুন করে কীভাবে করে আনতে পারি, কীভাবে পরিকল্পনা করতে পারি, এগুলো আমার কাজ এবং আমি এগুলেতেই ফোকাসড। মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য ক্রিকেট মাঠে যারা সম্পৃক্ত, তাদেরই পুরোপুরি প্রশংসা করতে হবে, কোচরা, সাপোর্ট স্টাফের অন্যরা, ক্রিকেটারা, ক্রিকেট অপারেন্স ম্যানেজার, সবাইৃ তাদের সাফল্য এটা। প্রশংসা তাদেরই পাওয়া উচিত।’
এইচপি নিয়ে তামিমের বড় পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সেটির সত্যতা নিশ্চিত করলেন তিনি, পাশাপাশি তুলে ধরলেন এটির প্রয়োজনীয়তা। আমাকে যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন যে আমার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা কী নিয়ে, আমার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা এইচপি নিয়ে। আমার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এইচপি নিয়েই হবে। আমার ফোকাসের কথা যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে আমার ফোকাস এইচপি নিয়েই বেশি। আমার মনে হয়, এইচপি পুরোপুরি সংস্কার করতে হবে। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যন্ত আমরা একটা সলিড টিম থাকি। সেখান থেকে জাতীয় দলে আসা পর্যন্ত যে ব্যবধান, কোনো কারণে সেই ব্যবধান আমরা পূরণ করতে পারছি না। কেন করতে পারছি না, এই জিনিসটা খুঁজে বের করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
কোন ধরনের সংস্কার করতে চান, তামিম তা বিস্তারিত খোলাসা করেননি। সামান্য একটু আভাস দিয়ে রাখলেন শুধু। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এইচপি থেকে যদি আমি বয়সের সীমাটা বের করে দিই, তাহলে এটা একটা জিনিস চেষ্টা করে দেখা যায়। যদিও নিশ্চয়তা দিতে পারব না যে, এত সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, তবে চেষ্টায় করায় দোষের তো কিছু নেই। আমরা যদি চেষ্টাই না করি, তাহলে তো বুঝব না আসলে এই ঝামেলাটা কেন হচ্ছে। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আপনারা গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান থেকেও পাবেন। কিছু কিছু নতুন জিনিসও যুক্ত করা হচ্ছে গেম ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে।
‘এইচপি নিয়ে আমি যেভাবে করে পরিকল্পনা করছি, আপনারা জানেন যে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে আমরা হেড অফ এইচপি করেছি। উনি এই দায়িত্বে থাকবেন। এইচপি নিয়ে প্রেস কনফারেন্স করে বিস্তারিত জানানো হবে। এখনই সব বলা ঠিক হবে না, যেহেতু এখনও কাগজে-কলমের অবস্থায় আছে। পুরোপুরি প্রস্তুত হলে জিনিসটা আপনাদেরকে জানাব।’