
X
এই ছবিটা পুরোনো, তবে ঢাকা লিগে এভাবেই ব্যাট তুলে ধরার উপলক্ষ্য আবার পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষে এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের পালা। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে দারুণ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন আবাহনীর হয়ে। এবারের ঢাকা লিগে প্রথম খেলতে নেমেই দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে তিনি জেতালেন দলকে।
শনিবার ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৯ উইকেটে হারায় আবাহনী লিমিটেড। ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে শনিবার অগ্রণী ব্যাংককে ১৭৯ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দেন আবাহনীর বোলরারা। রান তাড়ায় ৭টি করে ছক্কা ও চারে ৯০ বলে ১০৮ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত। আবাহনী জিতে যায় ১১০ বল বাকি রেখেই।
দারুণ ছন্দে আছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ছন্দ ধরে রেখেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শেষ হতেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে নেমেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেই তুলে নিয়েছেন অপরাজিত সেঞ্চুরি।
তার দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। ৭ চার ও ৭ ছক্কায় শান্ত খেলেছেন অপরাজিত ১০৮ রানের ইনিংস। শনিবার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) মাঠে মুখোমুখি হয় অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেড। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আবাহনীর বোলিং তোপে পড়ে অগ্রণী ব্যাংক।
৪২.১ ওভারে ১৭৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় দলটি। ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন নাসির হোসেন ও ইমরুল কায়েস। নাসির করেন ৫৬ রান, আর ইমরুলের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। আবাহনীর অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন নিজেসহ পাঁচ বোলারকে ব্যবহার করেন। কেবল শেখ মেহরাব হোসেন উইকেটশূন্য ছিলেন। বাকি পাঁচ বোলার রোহান উদ দৌলা বর্ষণ, রাকিবুল হাসান, খালেদ আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহফিজুর রহমান রাব্বি প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন।
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার জিসান আলমকে হারায় আবাহনী। এরপর শান্ত ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন মিলে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৭৩ রানের জুটি। পাকিস্তান সিরিজে দারুণ ছন্দে থাকা শান্ত সেই ফর্ম ধরে রেখেছেন ঢাকা লিগেও। খেলেছেন ১০৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৯০ বলে সাজানো তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কা। অন্যপ্রান্তে মাহিদুল করেন অপরাজিত ৫৬ রান। তাদের ব্যাটে ভর করে ৩১.৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আবাহনী।
আর এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে আবাহনী। ৭ ম্যাচে ৫ জয়ে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। অন্যদিকে, ৭ ম্যাচে ৩ জয় ও ৬ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।
রান তাড়ায় আবাহনী তৃতীয় ওভারে হারায় জিসান আলমকে (৬)। প্রথম ৭ ওভারে আবাহনীর রান ছিল ১৮। অষ্টম ওভারে নাসিরের বলে শান্তর ছক্কায় ম্যাচের চিত্র বদলের শুরু। এরপর আর পিছু তাকাতে হয়নি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এক পাশ আগলে রাখেন, আরেকপাশে ঝড় তোলেন শান্ত।
৪৯ বলে ফিফটির ফিফটিতে চারটি ছক্কা মারেন শান্ত। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশে লাগে তার স্রেফ ৩১ বল। শহিদুল ইসলামের টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে ৮০ বলে পৌঁছে যান শতরানে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি হলো এখন ১৬টি। শেষ পর্যন্ত দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন তিনি। তার সঙ্গী মাহিদুল অপরাজিত থাকেন চার ছক্কায় ৮৬ বলে ৫৬ রান করে। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে লিগ শুরু করা আবাহনী টানা পঞ্চম জয়ে জিইয়ে রাখল শিরোপা ধরে রাখার আশা।