
X
লিওনেল মেসি , লামিন ইয়ামাল এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
লামিন ইয়ামাল যে ইতিপূর্বেই বিশ্ব ফুটবলের একজন গ্লোবাল সুপারস্টার বা মহাতারকা হয়ে উঠেছেন, তা নিয়ে আজ আর কোনো সন্দেহ নেই। এত কম বয়সে স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড তার অবিশ্বাস্য প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং বড় ম্যাচগুলোতে ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছেন।
আর এই কারণেই, ফুটবল দুনিয়ার অভিজাত স্তরে পা রাখার পর থেকেই লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে তার তুলনা হওয়াটা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার নিজে সবসময় এই জটিল বিতর্ক থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন।
সম্প্রতি ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে লামিন ইয়ামাল নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তার সেই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ইয়ামাল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য তাদের (মেসি ও রোনালদো) সঙ্গে তুলনায় যাওয়া নয়, বরং তাদের পাশাপাশি উচ্চারিত হওয়া। আমি চাই, পরের বার যখন কাউকে ইতিহাসের সেরাদের নিয়ে এই প্রশ্নটি করা হবে, তখন যেন তাদের নামের পাশে আমার নামটিও থাকে।
তার এই আত্মবিশ্বাসী বাণী তরুণ এই প্রতিভার মানসিকতাকেই পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলে। লামিন ইয়ামাল কেবল মেসি বা রোনালদোর ছায়াতলে বেঁচে থাকতে চান না; বরং তিনি চান নিজের এক অনন্য লিগ্যাসি বা সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে। তার স্বপ্ন একদিন তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা এই দুই মহাতারকার সঙ্গে একই মর্যাদার আসনে বসবেন।
অন্যদের সঙ্গে তুলনায় মেতে উঠে নিজের মনোযোগ নষ্ট করতে চান না এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। নিজের উন্নতির ওপর মনোযোগ দেওয়া এবং তুলনার এই মানসিক ব্যামো বা অবসেসশন এড়িয়ে চলার গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি অন্য কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার পেছনে অন্ধের মতো ছুটে চলেন, তবে শেষ পর্যন্ত তা আপনার নিজেরই ক্ষতি ডেকে আনবে। আমি কেবল নিজের একটি পথ তৈরি করতে চাই এবং মাঠে আমার খেলা দিয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’
বার্সেলোনার হয়ে সদ্য সমাপ্ত মৌসুমটি দুর্দান্ত কেটেছে লামিন ইয়ামালের। বার্সার জার্সিতে সবচেয়ে কম বয়সে খেলার ও গোল করার একাধিক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেছেন তিনি। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভারূপে। মাঠের ভেতরে ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর ড্রিবলিং দক্ষতা, চমৎকার ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা এবং চাপের মুখেও ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দল উভয় জায়গাতেই অপরিহার্য খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
লামিন ইয়ামালের ক্যারিয়ারের পরবর্তী সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে তার জীবনের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ। তবে এই মেগা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে স্প্যানিশ শিবিরে তাকে নিয়ে এক বড় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। লা লিগার একেবারে শেষ মুহূর্তের ম্যাচগুলোতে এই উইঙ্গার একটি পেশির ইনজুরিতে পড়েন, যা স্পেনের ফুটবল ভক্তদের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা টেনে দিয়েছিল।
তবে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ইয়ামালের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি বেশ ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। স্পেনের কোচিং স্টাফ ও মেডিকেল টিম এই তরুণ তারকাকে নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না, যাতে ইনজুরি আবার নতুন করে বড় আকার ধারণ না করে। কারণ স্প্যানিশ টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো করেই জানে যে, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন ম্যাচগুলোতে লামিন ইয়ামাল একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে ইয়ামালকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে বা তিনি মাঠের বাইরে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্প্যানিশ দলটির মূল লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ উরুগুয়ে ম্যাচের আগেই যেন এই বিস্ময়বালককে শতভাগ ফিট করে মাঠে নামানো যায়