প্রকাশ: রোববার, ২৪ মে, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম (ভিজিট : ২২)

X
গোল করে উচ্ছ্বসিত হ্যারি কেইন
প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল খেলে বায়ার্ন মিউনিখকে রুখে দিয়েছিল স্টুটগার্ট। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আর ইংলিশ গোলমেশিন হ্যারি কেইনের গোলবন্যা ঠেকাতে পারল না তারা। কেইনের দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে দীর্ঘ ৬ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে জার্মান কাপের শিরোপা ঘরে তুলল বায়ার্ন মিউনিখ।
শনিবার রাতে বার্লিনে অনুষ্ঠিত জার্মান কাপের (ডিএফবি-পোকাল) ফাইনালে স্টুটগার্টকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন। দলের এই রাজকীয় জয়ে তিনটি গোলই করেছেন ইংলিশ তারকা ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। কেইনের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ২০২০ সালের পর আবার জার্মান কাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরল বায়ার্ন।
আর সব মিলিয়ে জার্মানির ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে এটি বায়ার্নের রেকর্ড ২১তম শিরোপা। ম্যাচের প্রথমার্ধে বায়ার্নকে গোলবঞ্চিত রাখতে সফল হলেও আক্রমণভাগে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি স্টুটগার্ট।
অন্যদিকে, ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল। তবে বিরতি থেকে ফিরেই খোলস ছেড়ে বের হয় বায়ার্ন। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কেইন। মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস থেকে এক দুর্দান্ত হেডে স্টুটগার্টের জাল কাঁপান ইংলিশ অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে একটি বিরল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান কেইন। জার্মানির ফুটবল ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে জার্মান কাপের ফাইনালসহ প্রতিটি রাউন্ডে গোল করার অনন্য এক কীর্তি অর্জন করলেন তিনি।
ম্যাচের ৮০ মিনিটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি পান এই অভিজ্ঞ তারকা। বায়ার্নের একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বল পান লুইস দিয়াজ। দিয়াজ দারুণ বুদ্ধিমত্তায় ফিরতি বল কেইনের দিকে বাড়িয়ে দিলে, নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।
এরপর ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) আসে বায়ার্নের জয়ের শেষ পেরেকটি। স্টুটগার্টের ডি-বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে সহজেই বল জালে জড়িয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন কেইন।
এই হ্যাটট্রিকের পর বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে চলতি মৌসুমে ৫১ ম্যাচে কেইনের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৬১-তে! ৩২ বছর বয়সি এই ফরোয়ার্ডের এমন অবিশ্বাস্য ফর্ম নিশ্চিতভাবেই আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।