
X
জার্মানির তরুণ তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন জার্মানির তরুণ তারকা ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। ইনজুরির কারণে গত বিশ্বকাপ মিস করা এই মিডফিল্ডার এবার বিশ্বমঞ্চে নিজের ছাপ রাখতে মুখিয়ে আছেন। জার্মানিকে ফাইনালে তোলার স্বপ্নের কথা জানিয়ে ভির্টজ বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলাই তার শৈশবের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।
গত মার্চে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বশেষ উইন্ডোতে এই প্লেমেকার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-৩ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে এক ম্যাচজয়ী মাস্টারক্লাস উপহার দিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজে দুটি চমৎকার গোল করেছেন এবং দলের বাকি দুটি গোলেও অ্যাসিস্ট করেছেন। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের পরিকল্পনায় তিনি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়, তা আরও একবার প্রমাণ করেছেন।
তাছাড়া ক্লাব ফুটবলেও শুরুর দিকের কিছু জড়তা কাটিয়ে উঠেছেন এবং গত কয়েক মাসে লিভারপুলের হয়ে দারুণ ফর্মে ছিলেন তিনি।
ফিফা বিশ্বকাপের গত আসরে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর এবার সাবেক লেভারকুসেন তারকা টুর্নামেন্টটির জন্য একদম মুখিয়ে আছেন। তবে ২৩ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি ফিফার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের এবং জার্মানি দলের ওপর থাকা চাপের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি শৈশবের বিশ্বকাপ স্মৃতি এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচের কথাও তুলে ধরেছেন।
ফিফা: সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচটি কি জার্মানির হয়ে আপনার এসময়ের সেরা পারফরম্যান্স ছিল?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য এটি অবশ্যই একটি দুর্দান্ত রাত ছিল। তবে তার চেয়েও বড় কথা, এটি পুরো দলের জন্য একটি সফল ম্যাচ ছিল। ম্যাচের আগে আমার ভাই আমাকে মেসেজ দিয়ে বলেছিল যে আমি দুটি গোল করবো। আমি উত্তরে বলেছিলাম, ‘আচ্ছা’, তবে আমি নিজেও তা বিশ্বাস করতে পারিনি। তাই যখন সেটি সত্যিই ঘটল, তখন দারুণ লেগেছিল।
ফিফা: এবারের বিশ্বকাপ একদম হাতের কাছে। এই প্রতিযোগিতা আপনার কাছে এবার কেমন মনে হচ্ছে?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: বিশ্বকাপের চেয়ে বড় কিছু আর হতে পারে না; ছোটবেলায় আপনি এটি নিয়েই স্বপ্ন দেখেন। আমি যদি এবারের আসরে খেলার সুযোগ পাই, যা বেশ সম্ভাবনাময় মনে হচ্ছে, তবে তা হবে আমার শৈশবের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। গত বিশ্বকাপের আগেও আমি দলের ভাবনায় ছিলাম, তারপরই ইনজুরিতে পড়ি। এবারের প্রতিযোগিতাটি আমার জন্য খুব সঠিক সময়ে আসছে, কারণ আমি নিজেকে দারুণ ফিট অনুভব করছি। আমি আর তর সইছে না!
ফিফা: আপনার প্রথম বিশ্বকাপ দেখার স্মৃতি মনে পড়ে?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: আমার মনে হয় সেটি ছিল ২০১০ সালের টুর্নামেন্ট। অন্তত সেটিই আমার সঠিকভাবে মনে থাকা প্রথম বিশ্বকাপ। আমি বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা রাস্তায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে ম্যাচগুলো দেখতাম। বিশ্বকাপ সত্যিই একটি অসাধারণ আয়োজন। এটি অনেক ভিন্ন ভিন্ন দেশকে একসঙ্গে নিয়ে আসে এবং জার্মানিতে সবসময়ই একটি দারুণ পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে পুরো দেশ জাতীয় দলের পাশে এসে দাঁড়ায়।
ফিফা: ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের অভিযান নিয়ে আপনার স্মৃতি কেমন?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: তখন পেশাদারভাবে ফুটবল খেলা আমার কাছে অনেক দূরের বিষয় ছিল। আমি জানতামই না যে আমি আদৌ পেশাদার ফুটবলার হতে পারব কি না। তাই একজন ভক্তের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমি সেই যাত্রাটা উপভোগ করেছিলাম। ফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য আমার পুরো পরিবার একসঙ্গে জড়ো হয়েছিল। সেই দলটি অবিশ্বাস্য ছিল, বিশেষ করে তাদের মানসিকতা। ফাইনালে তারা যেভাবে পারফর্ম করেছিল এবং শিরোপা জিতেছিল, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। আমরাও অবশ্যই তাদের পদচিহ্ন অনুসরণ করতে চাই, তবে তা বলা যত সহজ, করা ততটা নয়। ২০১৪ সালে যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার অগাধ সম্মান রয়েছে।
ফিফা: আপনি শিগগিরই আপনার বিশ্বকাপ অভিষেক করতে যাচ্ছেন। তখন কেমন অনুভূতি হবে বলে মনে হয়?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: সত্যি বলতে, আমি বলতে পারছি না। বিশ্বকাপের মাঠে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি কেমন হতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না। আপাতত আমি মাঠে নামার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি এবং আশাবাদী যে আমরা জার্মানির মানুষকে আনন্দ করার মতো কিছু উপহার দিতে পারব। বাকিটা সময়ই বলে দেবে।
ফিফা: এই প্রতিযোগিতায় আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: স্বাভাবিকভাবেই আমি গোল করে আমাদের দলকে ফাইনাল এবং শিরোপার দিকে নিয়ে যেতে চাই। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমি আমার খেলার ধরন দিয়ে উদাহরণ তৈরি করতে চাই এবং সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করতে চাই। আমি দলে নতুন শক্তি নিয়ে আসতে চাই, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে চাই এবং আমাদের অনেক দূর যেতে সাহায্য করতে চাই।
ফিফা: জার্মানি সাধারণত টুর্নামেন্টগুলোতে অনেক উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে খেলতে নামে। আপনি কীভাবে সেই চাপ সামলান?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: এটি সত্যি যে জার্মানির কাছ থেকে সাধারণত অনেক বেশি প্রত্যাশা থাকে, কারণ আমরা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং অনেক টুর্নামেন্টেই শক্তিশালী দল হিসেবে খেলেছি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো যায়নি, তাই আমরা সেই ধারা ভাঙতে চাই। আমি এটি বাস্তবায়নে আমার ভূমিকা রাখতে চাই এবং আগেই যেমন বলেছি, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে চাই। তা সত্ত্বেও আমাদের দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছেন, যারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তাই আমি নিজের কাঁধে আলাদা কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করছি না।
ফিফা: শিরোপার শীর্ষ ফেভারিটদের তালিকায় না থাকাটা কি আপনাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: যারা সবচেয়ে বড় দাবিদার, তারা সবসময়ই অনেক বেশি নজরের মধ্যে থাকে। গত কয়েক বছরে যা ঘটেছে, সেই বিবেচনায় আমরা ঠিক সেই তালিকায় নেই। আমরা অবশ্যই যতটা সম্ভব দূরে যেতে চাই এবং আমাদের লক্ষ্য অনেক উঁচুতে। তবে এটাও সত্যি যে আমাদের ওপর চাপ কম থাকাটা ইতিবাচক হতে পারে; আমরা আরও স্বাধীনভাবে খেলতে পারব।
ফিফা: আপনি কি মনে করেন দল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের আরও তীব্রতা এবং শক্তিশালী মানসিকতার আহ্বানে সাড়া দিতে পেরেছে?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: শেষ কয়েকটি ম্যাচ ছিল সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ। স্লোভাকিয়ার ম্যাচটি ছিল বেশ কিছুদিন পর আমাদের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দল হিসেবে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতেও আমি খুব সন্তুষ্ট। এটি আমাকে আগামী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে।
ফিফা: নাগেলসম্যান তরুণ খেলোয়াড়দের স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন, এটি কি আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?
ফ্লোরিয়ান ভির্টজ: একেবারেই। তিনি সবসময় আমাকে ভালো পজিশনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে মাঠে স্বাধীনভাবে ঘুরে খেলার লাইসেন্সও দেন এবং আমার সিদ্ধান্তের ওপর ভরসা রাখেন। আমার অন্যতম বড় শক্তি হলো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ফাঁকা জায়গাগুলো খুঁজে বের করা এবং নিখুঁত পাস দিয়ে বা প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বিপদ তৈরি করা। আমি সেটাই করার চেষ্টা করি, আর কোচের টিপস ও পরামর্শ এক্ষেত্রে বড় সাহায্য করে।