
X
সংগৃহীত ছবি
ঈদের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। ডলারের দরপতন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা আবারও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৪ হাজার ৫৭২ দশমিক ৯০ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-ভিত্তিক স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে। ফলে বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি তার প্রতিনিধিদের ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিন মাস ধরে চলা যুদ্ধের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাও নাকচ করেছে তার প্রশাসন।
এর আগের দিন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘মূলত আলোচনা’ হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
সেই আশাবাদে সোমবার তেলের দাম দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে এখনো মতবিরোধ রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকায়।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায়।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে।
প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৮৫ ডলার। একই হারে বেড়ে প্যালাডিয়ামের দাম হয়েছে ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ২৫ ডলার।