
X
এআই ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি
সম্প্রতি চালু হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় মামলা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সাইবার প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। ফোন নম্বরে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে। দেয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ।
এসএমএস পাওয়ার কথা জানিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী পোস্ট দিয়েছেন। এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। এ সংক্রান্ত পোস্টে কমেন্টেও কেউ কেউ এ ধরনের বার্তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, এটি মূলত ব্যাংক কার্ডের তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে তৈরি একটি ফিশিং চক্র। যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। সেখানে জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি লিংক যুক্ত করা হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীকে নিয়ে যাচ্ছে বিআরটিএর আদলে তৈরি একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে। কোনো ধরনের গাড়িই নেই, অথচ জরিমানা-মামলার মেসেজ পেয়েছেন— এমন ভুক্তভোগীর কথাও জানা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে।
প্রতারণার পুরো প্রক্রিয়াটি শুরু হয় একটি এসএমএসের মাধ্যমে। মেসেজে প্রেরক হিসেবে কোনো সরকারি সংস্থা বা বিআরটিএর নাম নেই। বরং ব্যবহার করা হয়েছে +৬৩ কোডযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক নম্বর— +63 948 331 8282, যা ফিলিপাইনের কান্ট্রি কোড।
প্রতারণার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আজ সোমবার (২৫ মে) বিআরটিএর সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়, একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে স্পিডিং ফাইন বকেয়া রয়েছে, দ্রুত পরিশোধ করুন বা আপনার বকেয়া জরিমানা আছে এ ধরনের বার্তা পাঠাচ্ছে। এসব বার্তার সঙ্গে বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংকও দেয়া হচ্ছে, যা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি)-এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এসব ভুয়া ওয়েবসাইট বা পোর্টালের সঙ্গে অফিসিয়াল বিএসপি ওয়েবসাইটের কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতারণামূলক কার্যক্রম।
সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বার্তার লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় থানা বা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ।
ট্রাফিক বিভাগের নামে পাঠানো জরিমানা সংক্রান্ত খুদে বার্তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও অসত্য বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের বিষয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নগরবাসী ভুয়া এসএমএস পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই ধরনের কোনো এসএমএসের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ডিএমপি জানায়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি চালক বা মালিকের নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া, বিশেষ প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠানো হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ট্রাফিক বিভাগের জরিমানাকৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের (উপায় ও ইউসিবিএল) মাধ্যমে বৈধভাবে অর্থ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ কখনও কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিনকোড, পাসওয়ার্ড কিংবা ওটিপি (OTP) জানতে চায় না। তাই এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।