
X
নেইমার জুনিয়র
যেটিকে মনে করা হয়েছিল সাধারণ আঘাত বা স্রেফ একটু ফুলে যাওয়া, সেটিই এখন ধরা পড়েছে পেশির গ্রেড-২ স্ট্রেইন হিসেবে। তবু নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে রেখে দিচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি এবং সেটি নিয়ে তার কোনো আক্ষেপও নেই। আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে চোটাক্রান্ত তারকাকে দলে রাখার কারণও ব্যাখ্যা করলেন ব্রাজিলের কোচ।
অনেক আলোচনা ও কৌতূহলের পর শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে রেখেছেন আনচেলত্তি। তবে এর মধ্যেই চোটের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে মাঠের বাইরে ৩৪ বছর বয়সি তারকা। সান্তোসের হয়ে ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন তিনি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার দিনই পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, গ্রেড-২ মাসল স্ট্রেইন তার। তাতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে ব্রাজিলের ইতিহাসের সফলতম গোলস্কোরারকে।
আড়াই বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপের আগে জরুরি ছিল পানামা ও মিশরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দুটিতে খেলা। কিন্তু এসব ম্যাচ তো বহুদূর, বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে তার মাঠে নামা নিয়েই এখন সংশয় আছে তীব্র। নেইমার প্রসঙ্গে একটি কথা প্রায় এক বছর ধরে টানা বলে গেছেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের কোচ বারবার বলেছেন, তার নাম বা খ্যাতির কারণে নয়, শতভাগ ফিট হলেই কেবল তাকে দলে রাখা হবে। কিন্তু নিজের কথায় তিনি অটল থাকতে পারেননি শতভাগ।
পানামার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের কোচ ব্যাখ্যা করলেন নেইমারকে দলে নেওয়ার কারণ। ‘যদি-তবে-কিন্তু’, এসব নানা প্রশ্নে জনপ্রিয় একটি প্রবাদ বাক্য বলে শুরুতে একটু রসিকতা করলেন আনচেলত্তি, “আমার দাদুর যদি চাকা থাকত, তাহলে তো তিনি গাড়িই হতেন!’ উপস্থিত সবার হাসির মধ্যে তিনি পরে তুলে ধরলেন কারণ।
“যখন থেকে আমি নিজে দল চূড়ান্ত করেছি, তখন থেকেই ২৬ জনের মধ্যে নেইমার ছিল। দল ঘোষণার আগে, আমরা সান্তোসের কাছ থেকে একটি রিপোর্ট পাই যে, তার (নেইমার) সামান্য সমস্যা হয়েছে, কিছুটা ফোলাভাব। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ২৭ তারিখ পর্যন্ত আমরা সান্তোসের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলাম।”
“নেইমারকে দলে ডাকা হয়েছে কারণ, কোচিং স্টাফের দৃষ্টিকোণ থেকে, তাকে দলে রাখতেই হতো। ২৭ তারিখের পর, সিবিএফ নেইমারের পরিস্থিতি নিজেদের হাতে নেয় এবং আমরা সেটাই করেছি। নেইমারের সেরে ওঠার ব্যাপারটি আমাদের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, সে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠবে।”
আনচেলত্তির আশা, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচেই ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে খেলতে পারবেন নেইমার,‘ সে ভালোভাবে অনুশীলন করছে এবং তার মনোবলও ভালো আছে... আমরা বিশ্বাস করি, সে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। প্রথম ম্যাচের জন্য যদি প্রস্তুত না-ও হতে পারে, তাহলে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেই।’