মির্জাগঞ্জে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি: সেবা না পেয়ে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। দূর-দূরান্ত থেকে

2026-06-02T15:13:52+00:00
2026-06-02T15:13:52+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
মির্জাগঞ্জে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অনুপস্থিতি: সেবা না পেয়ে ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা
মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৩:১৩ পিএম   (ভিজিট : ৪৬)
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। দূর-দূরান্ত থেকে গবাদিপশু নিয়ে আসা সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা ও ওষুধ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সোমবার (১ জুন) হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অফিস সময়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে মাত্র ৪ জন কর্মচারী উপস্থিত থাকেন। যেখানে মোট ২১ জন স্টাফ বা কর্মচারী নথিতে রয়েছে, সেখানে বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলাউদ্দিন মাসুদ অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। অফিসে তার খোঁজ নেওয়া হলে অন্যান্য কর্মচারীরা জানান যে, তিনি 'পথিমধ্যে আছেন' বা 'ফিল্ড ভিজিটে' আছেন। তবে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এছাড়াও হাসপাতালের অপর কর্মকর্তা ডাঃ চঞ্চল রায় (প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা)-এর কক্ষটিও তালাবদ্ধ দেখা যায়। অফিস থেকে জানানো হয় তিনি ছুটিতে আছেন, তবে ছুটির সঠিক মেয়াদ বা কারণ সম্পর্কে দায়িত্বরতরা স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।

চিকিৎসা ও ওষুধ নিতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে এসে ডাক্তার বা কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো ডাক্তার না পাওয়ায় অনেকেই তাদের অসুস্থ গবাদিপশু নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকারি ওষুধপত্র ও ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

মজিবুল হক নামের এক ব্যক্তি হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, "আমরা ডাক্তার দেখাতে আসছি, কিন্তু ডাক্তার পাই নাই। হাসপাতাল খোলা আছে, অথচ কোনো ডাক্তার নাই। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে অপেক্ষা করে এখন চিকিৎসা না পেয়েই চলে যাচ্ছি।"

মজিদবাড়িয়া থেকে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, "প্রায় এক ঘণ্টার মতো এখানে আসছি। কিন্তু যে গবাদিপশুর পরামর্শের জন্য আসছি, তার কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। কারণ কোনো ডাক্তার উপস্থিত নাই। বড় স্যারেরা থাকলে প্রেসক্রিপশন বা ওষুধ লিখে দিতেন, কিন্তু তারা না থাকায় কোনো ট্রিটমেন্ট পাচ্ছি না।"

পায়রাকুঞ্জ এলাকার এক প্রবীণ সেবাগ্রহীতা তিনি তার অসুস্থ গবাদিপশুর পরামর্শ ও ভ্যাকসিনের জন্য এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো ডাক্তার বা কর্মকর্তার দেখা না মেলায় তিনি কোনো সেবা বা ভ্যাকসিন পাননি। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে আরো কিছু ভুক্তভোগী অফিস স্টাফদের ভয়ে মুখ খুলতেও দ্বিধাবোধ করেন।

এই বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকে অবগত হলাম। আমি এখনই এর খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।"





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy