
X
৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশার’ নাম আব্দুল হামিদ!
অনলাইন অ্যাপসে বেশি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১০০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. আব্দুল হামিদ (৩৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনো নিজেকে ৪০০ বছর বয়সী ‘জিনের বাদশা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনো বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপসে বিনিয়োগ করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখাতেন।
গ্রেপ্তার আব্দুল হামিদ উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এ তথ্য জানায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন মমতাজ বেগম (৩১) সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ তাঁর কাছে গিয়ে ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে জানান। পরে তাঁর কথায় বিশ্বাস করে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ওই অ্যাপসে বিনিয়োগ করেন।
এজাহার অনুযায়ী, প্রথমে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপসে বিনিয়োগের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইকো ভোল্ট অ্যাপসটি অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন করে অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে আরও ৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় একাধিক দল অভিযান চালায়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সলঙ্গা থানার বনবাড়িয়া গ্রাম থেকে আব্দুল হামিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে একটি ওয়ালটন ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাপসের বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে অ্যাপস চালু করে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। কিছুদিন পর অ্যাপসগুলো বন্ধ করে নতুন অ্যাপস চালুর মাধ্যমে আবার বিনিয়োগের আহ্বান জানাতেন।
পুলিশের দাবি, গ্রাহকেরা টাকা ফেরত চাইলে বা যোগাযোগ করলে তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিতেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন।
মামলার বাদী মমতাজ বেগম বলেন, “আমি একটি টিমের লিডার। আমার টিমের ১০০ জন তাঁর কাছে সব মিলিয়ে ২১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। পরে দেখি অ্যাপসটি অকার্যকর হয়ে গেছে। তাই থানায় অভিযোগ করেছি।”
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, “আসামি দুটি অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।”
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।