
X
কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ
রসু খাঁর নেশা ছিল নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা নানা প্ররোচনায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা। গলাটিপে কিংবা পানিতে চুবিয়ে ওই নারীদের হত্যা করতেন এই সিরিয়াল কিলার। হত্যা করার আগে নিজে অথবা সহযোগীদের নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণ করার প্রবণতা ছিল রসু খাঁর।
হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া রসু খাঁ এখন চাঁদপুর কারাগারে বন্দি। তার প্রথম মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় ২০১৫ সালে। সেই থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অপেক্ষা- কবে হবে রসু খাঁর ফাঁসি?
বহুল আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর বিরুদ্ধে ১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই আসামির ফাঁসির আদেশ নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতে বহাল থাকলেও দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কার্যকর হয়নি সেই দণ্ড।
২০১৫ সালে একটি হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন চাঁদপুরের আদালত। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত তাকে একজন নৃশংস ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি কোনো ধরনের আইনি অনুকম্পা পাওয়ার যোগ্য নন।
হাইকোর্টের রায়ের পরও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ না হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আপিল বিভাগে মামলার শুনানি শেষ করে রায় বাস্তবায়নের পথে এগোনো সম্ভব হতে পারে।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা, মামলার জট এবং পেপারবুক প্রস্তুতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
রসু খাঁর অপরাধের ইতিহাসে দেখা যায়, ২০০৯ সালে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে একের পর এক নারী ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন তিনি। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও ১১টি হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেন।
তার অন্যতম আলোচিত অপরাধ ছিল পারভীন আক্তার হত্যা মামলা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জুলাইয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পারভীনকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ মামলায় ২০১৮ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এছাড়া ২০১৫ সালে খুলনার পোশাককর্মী শাহিদা হত্যা মামলায়ও তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। তবে ১১টি মামলার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি নয়টি মামলার বিচার এখনও নিম্ন আদালতেই ঝুলে রয়েছে।
সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আপিল বিভাগে শুনানি শুরু করা যায় না। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় কয়েক বছর লেগে যায়, যা বিচার বিলম্বের অন্যতম কারণ।
মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে একটি আলোচিত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন বহু মামলা এখনও উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।