প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৮০)

X
সংগৃহীত ছবি
বাগেরহাটের চিতলমারীতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভয়াবহ আকারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের আসক্তি দেখা দিয়েছে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার করছে। এতে খিটখিটে মেজাজের হয়ে পড়ছে তারা।
এ ছাড়া মানসিকভাবেও নানা প্রভাব পড়ছে তাদের ওপর। ইন্টারনেট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা টিকটক, রিলস ও ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
অনেকে আবার মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে এলাকার অনেক শিক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে জুয়া খেলার মতো বাজে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।
পাশাপাশি এসব শিক্ষার্থী তথ্যপ্রযুক্তির অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করে অশালীন ভিডিও দেখার ভয়াবহ ও ক্ষতিকর আসক্তিতেও জড়িয়ে পড়ছে। মোবাইল ফোনের অপব্যবহার রোধে এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি করা না হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।
উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে।
ভুক্তভোগী অভিভাবকরা জানান, তাদের সন্তানরা অতিমাত্রায় মোবাইল ফোন আসক্তিতে আক্রান্ত। নিয়মিত তারা পড়ার টেবিলে বসে না। স্কুল-কলেজে যাওয়ার বিষয়েও তাদের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এসব শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত ফোন ঘাঁটাঘাঁটি করে। দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে।
খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে তাদের চরম অনীহা। অনেক পরিবারের সন্তানরা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা অন্য কোনো উপায়ে বাবা-মাকে জিম্মি করে ফেলছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সন্তানকে মোবাইল ফোন কিনে দিচ্ছেন।
অনেক দরিদ্র পিতা-মাতা তাদের সন্তানের মোবাইলে ইন্টারনেটের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর ফলে অধিকাংশ বাড়িতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি। এসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন বলেও মত প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে চিতলমারী শেরে বাংলা ডিগ্রি কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কাজী বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ও ইন্টারনেটে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।
কিন্তু শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো গ্রহণ করে পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এভাবে চলতে থাকলে লেখাপড়ায় বিপর্যয় নেমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।