
X
ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের অধিনায়ক জশ ইংলিস এবং মেহেদী হাসান মিরাজ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন আর ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই নীরবে হাজির হয়েছে আরেকটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। আর এই ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।
২০১১ সালের পর এই প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ অপেক্ষার এই সিরিজে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু দুই দলের লড়াই নয়, আছে মিরপুরের উইকেটও। বিশেষ করে একটা সময় বাংলাদেশের উইকেট মানেই ছিল স্পিনের স্বর্গ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিত্র বদলেছে অনেকটাই। এবার মিরপুরে পেসারদের প্রভাবই হতে পারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
চলতি বছরে বাংলাদেশে হওয়া ছয়টি ওয়ানডের মধ্যে পাঁচটিই হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। আর সেখানে পেসাররা নিয়েছেন ৬৯ উইকেট, গড় ২২.৬০। বিপরীতে স্পিনারদের উইকেট ২৬টি, গড় ৩৫.৫০। ফলে এবার স্পিনের চেয়ে পেসারদের গতি নিয়েই বেশি ভাবতে হচ্ছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলকে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ডানহাতি তরুণ পেসার নাহিদ রানা। পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ছয় ওয়ানডেতে ১৬ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা। গতি ও বাউন্সে ইতোমধ্যে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচয়ও তৈরি করতে শুরু করেছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য অবশ্য সিরিজটা মোটেও সহজ হচ্ছে না। কারণ নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ এখনো চোটের কারণে বাইরে। ট্রাভিস হেড পুরো সফর থেকেই ছুটিতে আছেন। পাকিস্তান সফরে স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে লড়াই করেও সিরিজ জিততে পারেনি অজিরা। তবে সেই সিরিজে নাথান এলিসের ওপর নির্ভরশীলতা এবারও দেখা যেতে পারে। সঙ্গে সুযোগ পেতে পারেন জেভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশুইস।
ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন মার্নাস লাবুশেন। পাকিস্তান সিরিজে তার রান ছিল ০, ৫ ও ১৯। সবশেষ ১৩ ওয়ানডে ইনিংসে তার সর্বোচ্চ স্কোর মাত্র ৪৭, গড় ১২.৪৬। তবে মার্শ ও হেড না থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবে এখনো দলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন তিনি।
বাংলাদেশ অবশ্য ঘরের মাঠে দারুণ ছন্দে আছে। শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ চারটি হোম সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। নিজেদের কন্ডিশনে কার্যকর এক সমন্বয়ও গড়ে তুলেছে দলটি। তাইতো আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেই ধারা ধরে রাখতে পারে টাইগাররা।
এদিকে প্রায় চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরতে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশে আছেন তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশে থাকতে পারেন ম্যাট শর্ট, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, অলি পিক, জেভিয়ার বার্টলেট, ম্যাট কুহনেমান, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা।
তার ওপর মিরপুরের উইকেট সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পেস সহায়ক হলেও আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে টস জিতে আগে ব্যাট করার প্রবণতা দেখা যেতে পারে, আবার ডিএলএস পদ্ধতিও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিসংখ্যান অবশ্য এখনো অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই কথা বলে। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত মাত্র একবারই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ-২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে। তবে সময় বদলেছে। ঘরের মাঠে এখন বাংলাদেশ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, অনেক বেশি পরিণত। আর সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আজ মাঠে নামবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তাইতো আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জয়ের সেই ধারা ধরে রাখতে চায় স্বাগতিকরা।