
X
সংগৃহীত ছবি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৮ দলের এই প্রথম বর্ধিত আসরে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সর্বশেষ যোগ্যতা অর্জনের তথ্য অনুযায়ী এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মিলিয়ে প্রায় ১৩টি মুসলিম দেশ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে, যা আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় একটি বড় বৃদ্ধি।
এই অংশগ্রহণ ফুটবলের বৈশ্বিক বিস্তার এবং মুসলিম বিশ্বের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক শক্তিকে তুলে ধরছে।
এবারের বিশ্বকাপে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলো হলো মরক্কো, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মিশর, সেনেগাল, সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, উজবেকিস্তান এবং তুরস্ক।
এছাড়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ইউরোপ থেকে প্রতিনিধিত্ব করছে। এই দেশগুলোর অনেকগুলো দীর্ঘদিন পর আবার বিশ্বকাপে ফিরছে, আবার কিছু দেশ প্রথমবারের মতো এই মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।
মরক্কো বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে সফল ফুটবল দলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে তারা ইতিহাস তৈরি করেছিল।
দলের রক্ষণভাগের নেতৃত্বে আছেন আশরাফ হাকিমি এবং গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো, যারা ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। তাদের এই সাফল্য আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের ফুটবল উন্নয়নে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও মিশর আফ্রিকার নিয়মিত বিশ্বকাপ প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মিশরের মোহাম্মদ সালাহ বিশ্বফুটবলের অন্যতম বড় তারকা, যিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে খেলছেন। সেনেগালও আফ্রিকার শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেখানে সাদিও মানে, কালিদু কুলিবালি এবং এদুয়ার্দ মেন্ডির মতো খেলোয়াড়রা দলের মূল ভরসা।
এশিয়ার দিকে ইরান ও সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে আসছে। ইরান এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল দলগুলোর একটি, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে।
সৌদি আরবও ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বফুটবলে আলোচনায় আসে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
উজবেকিস্তান এবং জর্ডান এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হিসেবে এই বিশ্বকাপে জায়গা করে নতুন ইতিহাস লিখেছে। বিশেষ করে জর্ডানের প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ তাদের ফুটবল ইতিহাসে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তুরস্কও দীর্ঘ বিরতির পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে, যা ইউরোপীয় ফুটবলে তাদের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দেয়।
ইউরোপ থেকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে। তাদের ফুটবল ইতিহাস তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তারা ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাট মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগের ৩২ দলের বিশ্বকাপে যেখানে মুসলিম দেশের সংখ্যা ছিল সীমিত, এবার তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩টিতে, যা বৈশ্বিক ফুটবলে নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ফুটবল উন্নয়ন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের উত্থানের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই দেশগুলো এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা, কৌশল এবং ফুটবল সংস্কৃতি নতুনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছে।