
X
কুরাসাওয়ের কোচ ডিক অ্যাডভোকেট।
‘যখন শুরু করেছি, তখন থেকেই জানি, আমরা ফেভারিট নই। কিন্তু যারা ফেভারিট নয়, তারা বিস্ময় উপহার দিতে পারে’, কথাগুলো ডিক অ্যাডভোকোটের। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ তো বটেই, বিশ্বকাপের ইতিহাসে যিনি সবচেয়ে বয়সী কোচ।
অ্যাডভোকেটের দল কুরাসা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘ছোট’ দেশ। যার ভূমির পরিমাণ মাত্র ৪৪৩ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা দেড় লাখের একটু বেশি। এই দলটি রোববার ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হিউস্টনে মুখোমুখি হবে জার্মানির।
বিশ্বকাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি স্বাভাবিকভাবেই অনেক এগিয়ে কুরাসাওয়ের চেয়ে। তবে, অ্যাডভোকেটের হাত ধরে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে উঠে এসেছে কুরাসাও। এমনকি, এই ডাচ কোচ নিজেও আছেন ইতিহাস গড়ার পথে।
চলতি আসরে, সবচেয়ে বয়সী কোচ হিসেবে ডাগআউটে দাঁড়ানোর রেকর্ড ইতোমধ্যে দুইবার ভাঙা-গড়া হয়েছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডাগআউট দাঁড়ানো উগো ব্রুশের বয়স ছিল ৭৪ বছর। এরপর ডাগআউটে দাঁড়ান চেকিয়া কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক (৭৪)। ব্রুশের জন্ম ১৯৫২ সালের ১০ এপ্রিল, কৌবেকের জন্ম ১৯৫১ সালের ১ সেপ্টেম্বর।
আর সেখানে অ্যাডভোকেট ৭৮ বছর বয়সী! জার্মানির বিপক্ষে ডাগআউটে দাঁড়ালেই সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচের রেকর্ডটা গড়ে ফেলবেন এই তিনি। তার দলের সব খেলোয়াড়ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। ডাচদের অধীনে কুরাসাও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, তাই।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুরাসাও দলের হাল ধরেন অ্যাডভোকেট। তার হাত ধরে, বাছাইয়ে ১০ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৮ গোল করে দলটি, কনক্যাকাফ অঞ্চলে কোনো দলের সর্বোচ্চ গোলও এটি। মাঝে অবশ্য টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলেন অ্যাডভোকেট নিজেও। অসুস্থ মেয়ের পাশে থাকতে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ফ্রেড রুটেনের কোচিংয়ে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে কুরাসাও ধুঁকলে, তিনি ফেরেন মে মাসে।
আর সেই অ্যাডভোকেট এখন ইতিহাস গড়ার সামনে দাঁড়িয়ে। এই ক্ষণ তিনি রাঙাতে চান জয়ের আনন্দে। জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে চমকে দিতে চান সবাইকে। বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাকে আমি আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি মনে করি। আমি আমার খেলোয়াড়, স্টাফ, বোর্ড সদস্যদের নিয়ে গর্বিত, যারা আমার উপর আস্থা রেখেছিলেন।”
“যখন শুরু করেছি, তখন থেকেই জানি, আমরা ফেভারিট নই। কিন্তু যারা ফেভারিট নয়, তারা বিস্ময় উপহার দিতে পারে। আর দুই বা তিন পয়েন্ট নিয়েও পরের ধাপে যাওয়া সম্ভব।”