
X
ছবি: প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর লাকসাম থেকে উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধানকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জিসান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া জিসানকে অপহরণ করা হয়নি। বরং একটি ধর্ষণের অভিযোগ ও বিয়ের চাপ এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তিনি অপহরণের দাবি করলেও তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তার গর্ভপাত করানো হয়। পরে ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন। তবে বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে ১১ জুন তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ আরও জানায়, আত্মগোপনে যাওয়ার পর জিসান তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদের মাধ্যমে দাউদকান্দি মডেল থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান। জিডির ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনাটির ভিন্ন চিত্র সামনে আসে।
জিসানকে উদ্ধারের পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
জিসান আহম্মেদ প্রধান (২৮) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
এদিকে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, অভিযুক্ত জিসানের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রেমের সম্পর্কের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সংগঠনের বিধি অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কোনোটি প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে ছাত্রশিবির। তবে সংগঠনটির দাবি, শুক্রবার রাতে উদ্ধারের পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত জিসানের সঙ্গে পরিবারের সদস্য বা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিবৃতিতে মামলার বাদীর বড় বোন সাবিকুন্নাহারের তথ্যও উল্লেখ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, শুক্রবার বিকেলে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের সদস্য ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যান এবং পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই নারী ও তার বাবাকে পৃথকভাবে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ কারণে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়নি বলে দাবি সংগঠনটির।
এস এম ফরহাদ বলেন, “সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে অপহরণ করা হয়েছে দাবি করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ছাত্রশিবির। এ ঘটনায় দলটির শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে অপহরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ বারী বলেন, ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিসান আহম্মেদ প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।