বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের রঙিন উৎসব। পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান, ক্যাম্পাস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই চলে দুই দলের সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক, খুনসুটি ও নানা ধরনের ট্রল। আর এসব ট্রলের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি হলো ব্রাজিল সমর্থকদের ‘সেভেন আপ’ খাওয়ানো।
বিশ্বকাপের সময় কিংবা দুই দলের কোনো ম্যাচকে কেন্দ্র করে প্রায়ই দেখা যায়, আর্জেন্টিনা সমর্থকরা ব্রাজিল ভক্তদের হাতে একটি সেভেন আপের বোতল তুলে দিচ্ছেন। অনেকে আবার উপহার হিসেবে পুরো একটি কেস সেভেন আপও নিয়ে হাজির হন।
বিষয়টি মূলত মজার ছলে করা হলেও এর পেছনে রয়েছে ফুটবল ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিল জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এই ম্যাচের পর থেকেই ‘৭’ সংখ্যাটি ব্রাজিলের জন্য ট্রলের প্রতীক হয়ে ওঠে। আর ‘সেভেন আপ’ পানীয়টির নামের শুরুতেই থাকা ‘সেভেন’ শব্দটিকে সেই ট্রলের সঙ্গে যুক্ত করেন ফুটবলপ্রেমীরা।
এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে একটি অলিখিত রীতি তৈরি হয়। ব্রাজিল সমর্থকদের খোঁচা দিতে কিংবা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করতে তাদের হাতে সেভেন আপ তুলে দেওয়া শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এটি ফুটবল সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে।
সেভেন আপের সাথে জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের হৃদয় ভাঙার গল্প
বিশ্বকাপ এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেভেন আপ নিয়ে অসংখ্য মিম, পোস্টার ও ভিডিও। অনেক এলাকায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের প্রীতি ম্যাচের আগে কিংবা পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠানে সেভেন আপ বিতরণ করতেও দেখা যায়।
কোথাও কোথাও আবার ব্রাজিলের জার্সির পাশে সাজিয়ে রাখা হয় সেভেন আপের বোতল, যা দর্শকদের মধ্যে হাস্যরসের জন্ম দেয়। এমনকি কেউ কেউ ব্রাজিলের তারকাদের সঙ্গে সেভেন আপের বোতল দিয়ে এআই ছবি বানিয়ে প্রকাশও করেন।
সম্প্রতি নড়াইলে আয়োজিত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচেও দেখা গেছে একই চিত্র। খেলা শুরুর আগে আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক শিশু সমর্থক হাতে নিয়ে মাঠে ঘুরছিল সেভেন আপের বোতল।
তার ভাষায়, ‘ব্রাজিলদের খেপানোর জন্যই এটা এনেছি। তারা ২০১৪ সাল থেকে সেভেন আপ খেয়ে আসছে।’
যদিও ব্রাজিল সমর্থকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সমর্থকদের ট্রল করে লাভ নেই; মাঠের অর্জনই তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই সেভেন আপ নিয়ে যতই হাসি-ঠাট্টা হোক, তারা নিজেদের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার কথাই সামনে আনেন।