নাটকীয় জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক

খেলাধুলা

তাসকিন আহমেদের বল কাভারে দিয়ে সীমানা ছাড়া করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন অ্যাডাম জাম্পা। যে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ছিল সহজ

2026-06-14T21:17:34+00:00
2026-06-14T21:17:34+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নাটকীয় জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৯:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৪৯)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

তাসকিন আহমেদের বল কাভারে দিয়ে সীমানা ছাড়া করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন অ্যাডাম জাম্পা। যে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ছিল সহজ জয়ের পথে, শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে সেখানেই জাগল রোমাঞ্চ, এক সময় অবিশ্বাস্য এক জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে গেল বাংলাদেশের। শেষ রোমাঞ্চে অবশ্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর স্বস্তি পেল সফরকারী দল।

মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ১ উইকেটে। বাংলাদেশের ২৭৪ রানের পুঁজি তারা পার হয় ৩ বল আগে। তিন ম্যাচের সিরিজ প্রথম দুই ম্যাচেই জিতে নিয়েছিলো বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচটা জিতে অজিরা কেবল হোয়াইটওয়াশের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে পারল।

অজিদের জয়ের নায়ক কনলি। তরুণ ব্যাটার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি নিয়ে যান দেড়শোর কাছে। খেলেন ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের ইনিংস। তবে জেতার কাজটা সমাপ্ত না করে আসায় বিপদে পড়েছিল তার দল। ক্যারিয়ার সেরা বল করে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন শরিফুল। 

শেষ শটে দলকে জেতানো জাম্পাকেও ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন শরিফুল। তার স্পেলের শেষ ওভারে স্লিপে জাম্পার ক্যাচটা রাখতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। তার আগে ৬ উইকেট নিয়ে মরা ম্যাচে আচমকা রোমাঞ্চ জাগান এই বাঁহাতি পেসারই। সেঞ্চুরি করা কনলিকে প্লেড অন করে উত্তাপ ছড়ান মোস্তাফিজ। তবে জাম্পা ঠান্ডা মাথায় ৫ বলে ৪ রান করে সারেন কাজ।

অথচ এক পর্যায়ে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২৬৬ রান। হাতে ৫ উইকেট নিয়ে জয় থেকে স্রেফ ৯ রান দূরে ছিল তারা। ৫ রান তুলতেই দলটি হারায় ৪ উইকেট। জন্ম হয় অতি নাটকীয়তার।
রান তাড়ায় নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা দারুণ, অন্তত আগের দুই ম্যাচের তুলনায় তো বটেই। ওপেনিং জুটিতে বদল এনে আগ্রাসী শুরু পায় তারা। ওভারপ্রতি ১০ করে রান আনছিলেন কনলি আর জশ ইংলিস। পঞ্চম ওভারেই অবশ্য আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। 

বাঁহাতি পেসারের বলে দলের ৪০ রানে ইংলিস ক্যাচ ম্যাট রেনশ লাইন মিস করে হন বোল্ড। আলেক্স কেয়ারিকে নিয়ে প্রথমে প্রতিরোধ গড়েন কনলি। থিতু হওয়া কেয়ারির উইকেট পেয়েছেন তাসকিন। তবে কৃতিত্ব দিতে হবে সৌম্য সরকারকে। বিদ্যুৎ গতির শট অসম্ভব ক্ষিপ্রতায় শর্ট কাভারে মুঠোয় জমান তিনি। 

চাপে পড়া দলকে এরপর টানতে থাকেন কনলি। মারনাশ লাবুশানেকে নিয়ে যোগ করেন ৬৪ রান। আগের ম্যাচে রানে ফেরা লাবুশানে এদিনও বড় কিছুর আভাস দিচ্ছিলেন। তাকে নতুন স্পেলে ফিরে থামান শরিফুল। এবার উইকেটের পেছনে দারুণ ক্যাচ দেন বদলি কিপার নুরুল হাসান সোহান। 

এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে আরেক জুটি জমে যায় কনলির। দুজনে মিলে রানে-বলে তাল মিলিয়ে ৬৮ করার পর গ্রিনকে ফেরান শেখ মেহেদী। তাতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি অজিদের রান তাড়ায়। 
একাদশে আসা তরুণ অলিভার পিক দেখান প্রতিশ্রুতি। আরও এক ৬০+ (৬৪) রানের জুটি আসে সফরকারীদের। শরিফুলের বলে পিক যখন আউট হয়ে ফিরছিলেন, তখন ম্যাচ জিততে তাদের দরকার কেবল ৯ রানের। ক্রিজে এসেই জেভিয়ের বার্টলেট প্রথম বলে আউট হলে সপ্তম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। 

চাপ তবু ছিলো না কারণ ঠিক আগের ওভারেই তাসকিনকে তিন ছক্কায় সমীকরণ একদম মামুলিয়ে বানিয়ে দিয়েছিলেন কনলি। কিন্তু শরিফুল যেন হাল ছাড়ার পত্র নন। নিজের শেষ ওভারে বেন ডোয়ারশুইসকেও তুলে নিয়ে রোমাঞ্চের জন্ম দেন। মুস্তাফিজ কনলিকে আউট করার পর তো বাংলাদেশের জয়ের পাল্লাও ছিলো ভারি।  

সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিলো বাংলাদেশ। তিন টপ অর্ডার ব্যাটারের ব্যর্থতার পর বড় জুটিতে দলকে খেলায় ফেরায় তাওহিদ হৃদয় আর লিটন দাস। লিটন পেশির চোটে মাঠ ছাড়ার পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এসে দেখান ছন্দ। শেষ দিকে লিটনও ফেরেন মাঠে। এই তিনজনের ফিফটিতে বাংলাদেশ পায় চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো সংগ্রহ। বিশেষ করে হৃদয় ছিলেন অনবদ্য। ৮৮ বলে করেন ৮৩। দলে ফিরে প্রথম ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক এদিনও ছিলেন ঝলমলে। ৫১ বলে করেন ৫৬। লিটনের ব্যাট থেকে আসে ৭৮ বলে ৫৮ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, শেখ মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ১৯, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, জ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, শেখ মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: কুপার কনোলি।
ম্যান অব দা সিরিজ: মোসাদ্দেক হোসেন।






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy