শরণার্থী শিবিরে জন্ম, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নেপথ্যে ছিলেন একজন বিশেষ নায়ক। ২-০ গোলের এই জয়ে প্রথম

2026-06-14T22:06:07+00:00
2026-06-14T22:06:07+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
শরণার্থী শিবিরে জন্ম, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম   (ভিজিট : ৪৫)
ভ্যাঙ্কুভারে
X

ভ্যাঙ্কুভারে

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নেপথ্যে ছিলেন একজন বিশেষ নায়ক। ২-০ গোলের এই জয়ে প্রথম গোলটি করে নেস্টোরি ইরানকুন্ডা শুধু অস্ট্রেলিয়াকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেতে সাহায্যই করেননি, বরং বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে দেশের জন্য ইতিহাসও রচনা করেছেন।

ইরানকুন্ডার ফুটবল যাত্রা স্বপ্নের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। তুরস্কের বিপক্ষে গোল করে গ্লোবাল সুপারস্টার হলেও তার সাফল্য রাতারাতি আসেনি। প্রথমত তাকে তার জন্মভূমি তানজানিয়া ছাড়তে হয়েছিল, পরে বায়ার্ন মিউনিখে। তিনি আসলে বুরুন্ডিয়ান, তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম  ২০০৬ সালে। তার বাবা-মা বুরুন্ডির নাগরিক, গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে নিজেদের দেশ ছেড়েছিলেন। শৈশবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান, যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে তিনি একটি নতুন জীবন গড়ার সুযোগ পান।

ওশেনিয়া অঞ্চলের সেই দেশেই তিনি তার প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর তিনি তার গতি, শারীরিক শক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্য দ্রুত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রথম দলের হয়ে তিনি ১৬টি গোল করেন এবং আটটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন, যা ইউরোপীয় বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।

২০২৪ সালে তিনি বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। যদিও তিনি মূল দলের হয়ে কখনো খেলেননি। তবে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের মতো তারকার সঙ্গে তার মেলামেশা হয়েছে, যা তার অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে।

কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জার্মান জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়ায় ইরানকুন্ডা বুঝতে পেরেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দলের পরিকল্পনায় টিকে থাকতে হলে তাকে মাঠে আরও বেশি খেলার সুযোগ অর্জন করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলার পর তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ওয়াটফোর্ড এফসি-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

‘এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমার নিয়মিত খেলার প্রয়োজন ছিল এবং আমি তা করতে পারছিলাম না,’ দলবদলের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেন।

ঝুঁকিটা কাজে লেগেছিল। ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য ডাক পাওয়া ইরানকুন্ডা নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোল করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এরপর থেকে তিনি দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।

আর তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস। ২৭তম  মিনিটে সকারুদের অর্ধ থেকে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস পান বাঁ প্রান্তে থাকা ইরানকুন্ডা। তারপর বাঁ পায়ে বল ঠেলে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। তাতে ২০ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী এই খেলোয়াড় বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান গোলদাতা হন।






Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy