
X
২০০৬ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির বিবর্তন
বিশ্বমঞ্চে নামার আগে ফেসবুক পেজে পোস্ট করলেন লিওনেল মেসি- “২০০৬ থেকে ২০২৬”। ছোট্ট এই পোস্টে লুকিয়ে আছে দুই দশকের গল্প। ছয়টি বিশ্বকাপে পাওয়া-না পাওয়া আর পেতে চলার অপেক্ষা। ২০০৬ সালে যে ছেলেটি বেঞ্চ থেকে উঠে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল ২০২৬ সালে সেই মানুষটিই ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ বিশ্বকাপ অভিযাত্রার শেষ অধ্যায় লিখতে চলেছেন।
স্বপ্নের প্রথম দরজা ২০০৬ সালে। জার্মানির বিশ্বকাপে মেসির বয়স সবে ১৮। সার্বিয়া ওমন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই অ্যাসিস্ট। ৪৪ মিনিটে গোল। সবাই বুঝে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা নতুন এক রত্ন পেয়েছে। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হার। শুরুর বিশ্বকাপেই ধাক্কা। বেঞ্চে বসে থেকেই ঝরিয়েছিলেন অশ্রু।
২০১০ সবচেয়ে নীরব বিশ্বকাপ বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে মেসি গিয়েছিলেন সাউথ আফ্রিকায়। দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে নতুন পজিশনে রাইট উইঙ্গার থেকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। অসংখ্য সুযোগ তৈরি করলেন, অ্যাসিস্ট করলেন, কিন্তু একটিও গোল পেলেন না। শেষ আটে আবারও জার্মানির কাছে ৪-০গোলে হার। এই বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিয়েছিল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব আর বিশ্বকাপ জেতা এক জিনিস নয়।
২০১৪ এক ইঞ্চির আক্ষেপ। ব্রাজিল বিশ্বকাপে বদলে গেলেন মেসি। গ্রুপ পর্বেই চার গোল, একের পর এক ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স। অধিনায়ক হয়ে দলকে তুললেন ফাইনালে। কিন্তু মারাকানায় অতিরিক্ত সময়ে মারিও গোটজের সেই ঐতিহাসিক গোল। ট্রফির পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে যাওয়া মেসির ছবিটা আজও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি। গোল্ডেন বল জিতেছিলেন, কিন্তু যার জন্য এসেছিলেন সেটিই পাননি।
একক যুদ্ধ ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে। রাশিয়ায় আর্জেন্টিনা ছিল ছন্নছাড়া। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ গোল করে দলকে শেষ ষোলোয় তুলেছিলেন মেসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের তরুণ কিলিয়ান এমবাপ্পের গতির কাছে থেমে যায় আলবিসেলেস্তেরা। সেদিন অনেকেই বলেছিলেন, হয়তো বিশ্বকাপ আর কোনোদিন ধরা দেবে না মেসির হাতে।
অসমাপ্ত গল্প পরিণতি পায় ২০২২ সালে। কাতার বিশ্বকাপ বদলে দেয় সবকিছু। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হার, তারপর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। সাত গোল, তিন অ্যাসিস্ট। প্রতিটি নকআউট ম্যাচে গোল। ফাইনালে জোড়া গোল করে দলকে জেতালেন। টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে যখন আরাধ্য ট্রফিতে চুমু আকলেন, তখন তার ক্যারিয়ার পূর্ণতা পেল।
ইতিহাসের শেষ অধ্যায় ২০২৬। এবার বয়স ৩৮, গতি আগের মতো নেই। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি, সিদ্ধান্ত আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো বিশ্বসেরা। এই বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই তিনি স্পর্শ করবেন বিরল এক রেকর্ডকে। ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা। যা পারেনি পেলে ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তীরাও। রেকর্ড গড়ার সুযোগ আছে আরও।
এই আসরে তিনটি গোল করলে ১৬ গোল নিয়ে স্পর্শ করবেন মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড। সবচেয়ে বেশি ২৬ ম্যাচ এবং সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকার রেকর্ডও এখন তার দখলে। এই বিশ্বকাপে তা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।