
X
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোসহ অনুশীলনে পর্তুগালের ফুটবলাররা-ইন্টারনেট
দেশের মাটিতে ১১ জুন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার পর বিশ্বকাপে খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌছায় পর্তুগাল। ‘দেরি করায়’ বেশ সমালোচনা চলছে দলটির। এর মধ্েযই তারা মায়ামির জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতে যাওয়ায় সমালোচনার মাত্রা বেড়েছে আরও। এসবের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাথেউস নুনেস। আজ বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পর্তুগাল। এর আগে সোমবার অনুশীলন ক্যাম্পে ছোট্ট কথায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন ২৭ বছর বয়সি নুনেস।
এখনও দল থেকে আলাদা অনুশীলন করছেন রুবেন দিয়াস। তবে ক্লাব সতীর্থ মাথেউস নুনেসের বিশ্বাস, বিশ্বকাপের শুরু থেকেই পাওয়া যাবে এই ডিফেন্ডারকে। ম্যানচেস্টার সিটি সতীর্থ দিয়াসের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন নুনেস। তার মতে, পর্তুগাল দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য দিয়াস এবং তিনি রক্ষণে বড় ভরসা।
দিয়াসের আলাদা অনুশীলনের কারণ এখনও জানায়নি পর্তুগাল। এতে দলটির ভক্তদের শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে যে, আগামী বুধবার ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে হয়তো অভিজ্ঞ সেন্টার ব্যাককে পাওয়া যাবে না। সোমবার অনুশীলন ক্যাম্পে সাংবাদিকদের নুনেস বললেন, তিনি শুরু থেকেই দিয়াসকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
তিনি বলেন,‘ অবশ্যই তাকে আমরা প্রতিটি ম্যাচে চাই, কারণ তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সিটি দলে আমার জুটি তিনি- আমরা সবাই জানি এই জাতীয় দলের জন্য তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ড্রেসিং রুম ও বাইরে একজন নেতা ও বলিষ্ঠ কণ্ঠ। আশা করি প্রথম ম্যাচের জন্য ফিট থাকবেন এবং বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর জন্যও।’
২৭ বছর বয়সি নুনেস ফুলব্যাক ও মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে পারেন। তাতে একাদশ নির্বাচনে বেশ বিকল্প থাকছে রবের্তো মার্তিনেসের হাতে। নুনেস বলেছেন, এই মুহূর্তে তার পছন্দের কোনো পজিশন নেই। আমি দুটি পজিশনই পছন্দ করি। আমার মনে হয়, আমি দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছন্দ। প্রায় দেড় মৌসুম ধরে ফুলব্যাক হিসেবে খেলছি। তাই এই পজিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর সঙ্গে আমি অভ্যস্থ। আমি লেফট উইংয়েও খেলেছি। খেলতে পারব এমন সব পজিশনেই আমি খেলেছি। আমি দুই পজিশনেই স্বচ্ছন্দ। এই মুহূর্তে কোনো পজিশন আমার কাছে অগ্রাধিকার নয়।
’
এর মধ্েযই তারা মায়ামির জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতে যাওয়ায় সমালোচনার মাত্রা বেড়েছে আরও। এসবের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন মাথেউস নুনেস,‘ সবসময়ই এটা আমাদের কাজের পরিকল্পনায় ছিল। আমরা সকালে সৈকতে গিয়েছিলাম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। কারণ অবশ্যইৃ আমি পুরো বছর ম্যানচেস্টারে খেলে কাটিয়েছি, এখানে যেমন, সেখানে ততটা রোদ কিংবা গরম নেই। তাই এটা বিশাল পার্থক্য। আমার মনে হয়, এটা স্বাভাবিক। এতে এমন একটা আভাস দেওয়া উচিত নয় যে, আমরা অনুশীলনের চেয়ে সৈকতে বেশি সময় কাটাচ্ছি। সকালে আমরা সৈকতে গিয়েছিলাম- এরপর অপরাহ্নে আমরা নিজেদের সারাদিনের স্বাভাবিক অনুশীলন করেছি।’
ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া নুনেস ১২ বছর বয়সে পর্তুগালে যান। ২০২১ সালে ব্রাজিল দলে ডাক পেলেও ইউরোপের দেশটিকেই বেছে নেন তিনি,‘ আমার মনে হয় আমি দুটোই- আমি পর্তুগিজ, আমি ব্রাজিলিয়ান। তবে যখন ফুটবলের প্রসঙ্গ আসে, ব্রাজিলের চেয়ে আমি পর্তুগালের প্রতি বেশি ঋণী। কারণ আজ আমি যা হয়েছি, এই সুযোগটা আমাকে পর্তুগাল দিয়েছে। পর্তুগাল আমার জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছিল। অবশ্যই এটা কঠিন। তবে পর্তুগালকে বেছে নিয়ে আমি গর্বিত। পর্তুগালের হয়ে খেলতে পেরে আমি খুশি।’