এবারের এল নিনো হতে পারে সবচেয়ে ভয়ংকর

অনলাইন ডেস্ক

আবহাওয়া

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনো আবারও শুরু হয়েছে। গত ১১ জুন

2026-06-17T15:43:42+00:00
2026-06-17T15:43:42+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
এবারের এল নিনো হতে পারে সবচেয়ে ভয়ংকর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ৯৩)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনো আবারও শুরু হয়েছে। গত ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) নতুন এল নিনোর সূচনার ঘোষণা দিয়েছে। 

বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস বলছে, এবারের এল নিনো অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, দাবানল ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এবারের এল নিনো যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী শক্তিশালী হয়, তাহলে এটি গত ৭৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর এল নিনো হতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কিছু অংশে খরা ও বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

কী এই এল নিনো

শত শত বছর আগে পেরুর জেলেরা লক্ষ্য করেছিলেন, কয়েক বছর পরপর বড়দিনের সময় প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে অ্যাঙ্কোভি মাছ হঠাৎ কমে যায়। তারা এ ঘটনাকে ‘এল নিনো’ নামে অভিহিত করেন, যার অর্থ ‘শিশু যিশু’।

বর্তমানে এল নিনোকে একটি বৈশ্বিক জলবায়ুগত চক্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন বদলে যায়।

রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা

এল নিনোর শক্তি নির্ধারণ করা হয় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কতটা বেড়েছে তার ওপর। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে সেটিকে শক্তিশালী এল নিনো ধরা হয়।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময় এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, এমনকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে উঠতে পারে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো ছিল ১৯৮২-৮৩ সালের, যখন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবারের এল নিনো সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও উষ্ণ হতে পারে পৃথিবী

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো নিজে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি হয় না। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে মিলিত হয়ে এর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৯৯৭-৯৮ সালের শক্তিশালী এল নিনোর পর ১৯৯৮ সাল সে সময়ের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছিল। একইভাবে ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর পর ২০১৬ সালে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়।

বর্তমানে ২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডধারী। সে বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, ২০২৭ সাল আরও উষ্ণ হতে পারে।

বন্যা-খরার দ্বৈত ঝুঁকি

এল নিনোর প্রভাব সব অঞ্চলে এক রকম হয় না। কোথাও খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত ৯ জুন সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সাহেল অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ সালের এল নিনোর সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা গিয়েছিল।

এফএওর মতে, সোমালিয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত খরা চলতে পারে। এরপর ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে দীর্ঘ খরার পর অতিবৃষ্টি পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। কারণ শুকিয়ে যাওয়া মাটিতে বৃষ্টির পানি সহজে শোষিত হয় না, ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাও খরার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অঞ্চল এরই মধ্যে যুদ্ধ, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জটিলতার কারণে সার সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, চাদ, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা ও হাইতির মতো দেশগুলো মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

প্রস্তুতির সময় এখনই

এল নিনো বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী জলবায়ুগত ঘটনাগুলোর একটি। ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বের বহু অঞ্চলে ভয়াবহ খরা, বন্যা এবং খাদ্যসংকট সৃষ্টি করেছিল। এবারও বিজ্ঞানীরা একই ধরনের ঝুঁকির কথা বলছেন। পূর্বাভাস সত্যি হলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড গড়তে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা-খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। খরাসহিষ্ণু বীজ ব্যবহার, গবাদিপশুর জন্য খাদ্য ও পানি সংরক্ষণ এবং আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট





Loading...
Loading...


আবহাওয়া এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy