
X
নবম পে-স্কেল
বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য সামনে রেখে কারিগরি, আর্থিক ও আইনি প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।
বৈঠকে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলা, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা। এ লক্ষ্যে বেতন কাঠামোর আর্থিক প্রভাব, আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির মুখে সরকার সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে।
বৈঠকে দ্রুত বেতন কাঠামো কার্যকর করতে তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর চাপ বিবেচনায় এনে প্রথম ধাপেই তাদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আলোচনায় উঠে এসেছে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।
অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য দূর করা। বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের বিষয়টি বৈঠকে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পে-কমিশনের সুপারিশের কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আইনি ও কারিগরি জটিলতা দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধিমালা সংশোধন, আইনি ভেটিং সম্পন্ন করা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত বেতন নির্ধারণ ও হিসাব-নিকাশের পরিকল্পনা বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।