
X
গিয়ের্মো ওচোয়াকে শূন্যে ছুঁড়ছেন তার সতীর্থরা।
ম্যাচ শেষের ১২ মিনিট আগে বদলি ফুটবলার হিসেবে মাঠে নামলেন গিয়ের্মো ওচোয়া। আসতেকার গ্যালারির দর্শকদের গর্জনে তখন চারপাশ প্রকম্পিত হয়ে উঠল। ম্যাচ শেষে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে সম্মান জানাল মেক্সিকান গ্রেটকে। সতীর্থরা তাকে শূন্যে ছুঁড়ে করলেন উদযাপন। ঘরের মাঠে মেক্সিকোর এই গোলরক্ষকের এর চেয়ে রাজকীয় বিদায় আর কী-ই বা হতে পারত!
জাতীয় দলের জার্সিতে ৪০ বছর বয়সি ওচোয়ার সম্ভাব্য শেষ ম্যাচটি জয়ে রাঙায় মেক্সিকো। বিশ্বকাপের শেষ গ্রুপ ম্যাচে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে চেকিয়াকে ৩-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো ওচোয়ারও এটি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। দলের প্রথম দুই ম্যাচে খেলানো হয়নি তাকে। চেকিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপে মাঠে নামেন তিনি।
এদিন ৭৮তম মিনিটে গোলকিপার রাউল রাহনেলের বদলি হিসেবে ওচোয়াকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের আগিরে। তখন ২-০ গোলে এগিয়ে মেক্সিকো। বাকিটা সময়ও দলকে কোনো গোল হজম করতে দেননি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
২০০৪ সালে এই আসতেকাতেই পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের পথচলা শুরু হয় ওচোয়ার, ক্লাব আমেরিকার হয়ে। ২২ বছর পর সেখানেই সম্ভবত শেষ হলো তার ক্যারিয়ার। ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে মেক্সিকো। শেষ বত্রিশের ম্যাচটিও তারা খেলবে আসতেকায়। কিন্তু সেই লড়াইয়ে গোলরক্ষক পজিশনে বড় কোনো জরুরি অবস্থা তৈরি না হলে, ওচোয়ার আর মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ওচোয়া এবারের বিশ্বকাপে দলের পার্শ্বচরিত্রে থেকেও বেশ সন্তুষ্ট। মেক্সিকান টিভিকে তিনি বলেন, “আমার প্রথম ম্যাচ আসতেকায়। আমার শেষ ম্যাচও আসতেকায়। এটা আমার ক্যারিয়ারের একটি চমৎকার শেষ অধ্যায়। সবাইকে ধন্যবাদ।”
মেক্সিকান ফুটবল ইতিহাসে যার শূন্যে ভেসে চোখধাঁধানো সব সেভ এবং একাই প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার বীরত্ব রূপকথা হয়ে আছে, তাকে যথাযথভাবে বিদায় দিতে পেরেছে মেক্সিকো। এমন সম্মান পাওয়ার যোগ্যই ছিলেন তিনি।
চেকিয়ার বিপক্ষে মেক্সিকোর প্রথম গোলটি করা মাতেও চাভেজের মতে, তাদের সবার জন্য আদর্শ ওচোয়া। তিনি আমাদের সবার জন্য উদাহরণ। সবার আগে জিমে যান, সবার শেষে বের হন। এটা তার অসাধারণ ক্যারিয়ারের সোনালী সমাপ্তি। তিনি আমাদের কাছে একজন আদর্শ। তার অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি দলকে পথ দেখিয়েছেন। আমি তার জন্য খুবই খুশি।’
কনক্যাকাফ অঞ্চলের সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন ওচোয়া। এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট কনক্যাকাফ গোল্ড কাপের শিরোপা জিতেছেন তিনবার- ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে। এই টুর্নামেন্টে ১৭ ম্যাচ খেলেছেন, এর ১৪টিতে জিতেছে মেক্সিকো, ড্র করেছে দুটিতে আর হেরেছে একটিতে।
বিশ্বকাপে ১২টিসহ জাতীয় দলের জার্সিতে মোট ১৫৩টি ম্যাচে খেলে শেষ হচ্ছে ওচোয়ার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ওচোয়ার বিদায়ী বিশ্বকাপে বহুল প্রতীক্ষিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে মেক্সিকো। এর আগে মাত্র দুবার শেষ আটে খেলতে পেরেছিল তারা, দুটিই দেশের মাটিতে- ১৯৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে।