প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ধারাবাহিকতায় জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।
সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতির আয়োজনে ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর মাঝে ৫০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে কোনো নাগরিক অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবে না। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৬২ হাজার মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার রোগী যুক্ত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নারী ও শিশু হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। গত এক বছরে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী বাজেটে এ খাতে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “অর্থের অভাবে কোনো রোগীর চিকিৎসা কিংবা কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা বন্ধ হবে না।” একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, হৃদরোগ বর্তমানে দেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষ হৃদরোগ ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় প্রাণ হারান। এ বাস্তবতা বিবেচনায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটকে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ জনবল দিয়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রচার জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ওয়াসিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সদস্য সচিব এ এফ খবির উদ্দিন আহমেদ, ভাসকুলার কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক বজলুল গনি, মন্ত্রণালয় ও হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চিকিৎসক, রোগী এবং তাদের স্বজনরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ একরামুল রেজা এবং ডা. ফারহানা আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ১০০ জন জন্মগত হৃদরোগীর হাতে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৫০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু রোগীদের চিকিৎসা সহায়তাই নয়, সামাজিক সংহতি ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টাকেও আরও শক্তিশালী করবে।