প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম (ভিজিট : ৪৬)

X
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পিছিয়ে আগামী ৯ অগাস্ট ধার্য করেছে আদালত। এক দশক আগের এই ঘটনায় এ নিয়ে ৯৬ বার পেছাল প্রতিবেদন দাখিলের দিন।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। কিন্তু এদিন মামলা তদন্তকারী পুলিশের অপরাধ বিভাগ-সিআইডি পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। এজন্য বিচারক জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন রাখেন ৯ অগাস্ট। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকুনুজ্জামান এ তথ্য দিয়েছেন।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়, স্থানান্তরিত এসব টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়েছিল। দেশের অভ্যন্তরেরই কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এই অর্থ পাচার হয়েছে বলে তখন ধারণা করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা।
পরে ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা; অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। কিন্তু দফায় দফায় সময় নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি সংস্থাটি। গেল জুনে রিজার্ভ চুরির মামলায় একটি খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানোর খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে। সেই খবরে ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের দায়িত্বে থাকা আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি ৬৪ জনকে অভিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের খোয়া যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আর পাওয়া যায়নি। রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর ২০১৯ সালে ওই অর্থ উদ্ধারের আশায় নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে একটি মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই মামলা খারিজে আবেদন করে আরসিবিসি।
২০২২ সালের এপ্রিলে নিউ ইয়র্কের আদালতে আরসিবিসির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলাটি খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, ওই মামলা বিচারের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ ওই আদালতের নেই। এরপর বাংলাদেশ বাংকের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল।