সাধারণ ঘরের অসাধারণ ছেলে দিয়াস

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলাধুলা

“যখন দিয়াস সবে হামাগুঁড়ি দিতে শুরু করে, তখনই সে ছোট ছোট পাথর পা দিয়ে ঘোরাত। আমি একাডেমির মাঠ

2026-07-03T19:20:41+00:00
2026-07-03T19:20:41+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সাধারণ ঘরের অসাধারণ ছেলে দিয়াস
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:২০ পিএম   (ভিজিট : ২৯)
ছেলে লুইস দিয়াসের বেড়ে ওঠা, কলম্বিয়া দলে ডাক পাওয়া, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের স্বপ্ন- সবই তুলে ধরলেন তার বাবা লুইস মানুয়েল।
X

ছেলে লুইস দিয়াসের বেড়ে ওঠা, কলম্বিয়া দলে ডাক পাওয়া, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের স্বপ্ন- সবই তুলে ধরলেন তার বাবা লুইস মানুয়েল।

“যখন দিয়াস সবে হামাগুঁড়ি দিতে শুরু করে, তখনই সে ছোট ছোট পাথর পা দিয়ে ঘোরাত। আমি একাডেমির মাঠ দেখভাল করতাম এবং সে সবসময় কান্না করতে করতে বলত-আমি যেতে চাই, আমি যেতে চাই”- স্মৃতি আওড়ে বললেন লুইস মানুয়েল, লুইস দিয়াসের বাবা।

এখন দিয়াস পাদপ্রদীপের আলোয়। কলম্বিয়ার এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে মাতামাতির শেষ নেই। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে দলটি তাকিয়ে আছে তার দিকে। ফুটবলের সবুজে দিয়াসের পথচলার শুরু, তারকা হয়ে ওঠা, এখনও সেই আগের মতো বিনয়ী থাকা- সবকিছু উঠে এলো মানুয়েলের কথায়। ফিফার সঙ্গে আলাপে ছেলের এতদূর আসার গল্পটা বাবা শোনালেন এক বুক গর্ব নিয়ে।

দিয়াসদের বাড়িতে ফুটবল স্রেফ আবেগের বিষয় ছিল না, ছিল জীবনাচরণের উপায়। পরিবারের কর্তা মানুয়েল নিজেও ছিলেন ফুটবলার; অবশ্য শৌখিন বলাই ভালো। কাজ করতেন যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে। ছেলে যে বাবাকে অনুসরণ করে ফুটবলার হবে, তাতে খুব বেশি বিস্ময়ের কিছু নেই।

“যখন দিয়াস সবে হামাগুঁড়ি দিতে শুরু করে, তখনই সে ছোট ছোট পাথর পা দিয়ে ঘোরাত। আমি একাডেমির মাঠ দেখভাল করতাম এবং সে সবসময় কান্না করতে করতে বলত-আমি যেতে চাই, আমি যেতে চাই”, ছেলের ছোটবেলা নিয়ে বললেন সিনিয়র দিয়াস।

ফুটবলের আঙিনায় সেই যে আসা-যাওয়া শুরু হলো দিয়াসের, তা চলছে আজও। এবারের বিশ্বকাপে এখন তিনি নকআউট পর্বে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কলম্বিয়ার জার্সিতে। ক্যানসাস সিটিতে শনিবার, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

লা গুয়াহিরা থেকে উঠে আসা সেই ছোট্ট ছেলেটি এখন কলম্বিয়ার সবচেয়ে বড় তারকা। যার কাঁধে সওয়ার হয়ে বিশ্বকাপে ছুটছে দলটি। কীভাবে দিয়াস এতদুর এলেন? বাবা গর্বভরে বললেন, তার ছেলে ফুটবলপাগল।

“লুইস ছিল ফুটবলপাগল বাচ্চা। খুব শৃঙ্খলাপরায়ন, মনোযোগী এবং মানুষ যে উপদেশ দিত, সবসময় সে তা শুনতে চাইত।”

ফুটবলের প্রতি ছেলের এত আগ্রহ বাবার জন্য একটু দুর্ভাবনার কারণও ছিল। কেননা, এই খেলার বাইরেও আলাদা একটা পৃথিবী আছে, যে জীবনটা একেবারেই আলাদা। তবে, নম্র-ভদ্র ছেলে নিয়ে স্বস্তিও ছিল তার। “সে ভীষণ ভদ্র ছিল। নিজের কাজের প্রতি মনোযোগী ছিল, সবসময় বাড়িতে থাকত। রাস্তায় ছুটে বেড়ানো তার কাজ ছিল না। কেননা, তার সবকিছু ছিল ফুটবল ঘিরে।

“সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠেই পড়ে থাকত। কেননা, সে খেলাটিকে এত ভালোবাসত যে, সবসময় মাঠে থাকতে চাইত। যখন আমরা তাকে আনতে যেতাম, সে রাগ করত। ছেলেকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলাম আমরা, কিন্তু কাজ হয়নি। এখন দেখুন, কোথায় আমরা।”

দিয়াস বড় হতে শুরু করলে, ভাবনাও বদলাতে থাকে মানুয়েলের। ছেলে যখন ‘টিনএজার’ তখন, তার মনে বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করল, ইশ্বর দেওয়ার পা দুটো তার ছেলেকে একদিন শীর্ষে পৌঁছে দিবে।
“সে যখন বড় হতে থাকল, ১০ বা ১২ বছর বয়স ছিল, আসলেই আমরা তার মধ্যে ফুটবলার হয়ে ওঠার গুন দেখতে পেলাম। বলে তার স্পর্শ, দক্ষতা, যেভাবে সে বল মুভ করে, সবকিছুই তার মধ্যে ছিল। আমরা উপলব্ধি করতে পারতাম, পেশাদার ফুটবলার হওয়ার মান তার মধ্যে আছে। তো, আমরা কাজ শুরু করে দিলাম তাকে নিয়ে।”
অবশ্য, লম্বা সময় দিয়াস সবার আড়ালেই ছিলেন। পাদপ্রদীপের আলোয় আসতে তার সময় লেগেছে। কিন্তু যখন এলেন, তার সামর্থ্য নিয়ে আর কোনো প্রশ্নই রাখলেন না।

“দিয়াস যুব পর্যায়ে খেলে উঠে আসতে পারেনি। যখন আমরা তাকে বাররানকুইয়াতে নিয়ে গেলাম, ততদিনে তার বয়স ১৬ থেকে ১৭ হওয়ার পথে। সে কোনো অনুশীলন ক্যাম্পে থাকেনি, কিন্তু বাররানকুইয়া ফুটবল ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরপরই কলম্বিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলে নির্বাচিত হলো এবং সাউথ আমেরিকান চ্যাম্পিয়নশিপে তার অভিষেকও হয়ে গেল। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সিনিয়র দলে জায়গা পাওয়াটা দিয়াসের জন্য খুব দূরের বিষয় নয়।”

কলম্বিয়া দলে দিয়াস ডাক পেয়ে গেলেন ২০১৮ সালে। যদিও দিন-তারিখ মনে নেই মানুয়েলের। তবে, ছেলের নাম ঘোষণা শোনার স্মৃতিটুকু মনে আছে তার। “সঠিক তারিখটা মনে নেই আমরা। তবে, এটা মনে আছে, ওই সময় আমরা লা গুয়াহিরায় ছিলাম, লুইস ছিল বাররানকুইয়ায়। প্রথমে গোলরক্ষক, ডিফেন্ডার, এরপর মিডফিল্ডারৃসবশেষে ফরোয়ার্ডদের নাম ঘোষণা করা হলো। সেখানে একজন উইঙ্গারের নাম ছিল: লুইস দিয়াস।

“দিয়াসের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য দলে ডাক পাওয়াটা পরিবারের জন্য ছিল নিখাদ এবং অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চকর একটা মুহূর্ত। এটা আমাদের জন্য ছিল বিশাল আনন্দের ও গর্বের।”
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর পরিশ্রমী দিয়াস মেলে ধরতে থাকলেন নিজেকে। দলে হয়ে উঠলেন অপরিহার্য। বৈশ্বিক ফুটবলে ছেলের জায়গা করে নেওয়ার ভিন্ন কিছু কারণও খুঁজে পেয়েছেন মানুয়েল। কোথা থেকে উঠে এসেছে, সে কখনই ভোলেনি। আমরা খুবই সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছি। যেখানে বিনয়, নম্রতা সবসময় আমাদের গড়ে তুলেছে। এগুলোই তাকে আজকের অবস্থানে তুলে এনেছে।

“লুইস অসাধারণ কৌশলী, নিখুঁত ও দক্ষ। পায়ের সাথে আটিয়ে সে বল নামাতে পারে; শরীরের যে কোনো অংশ দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বলের উপর তার দক্ষতা অকল্পনীয়। সে রোনালদিনিয়ো ও লিওনেল মেসির মতো প্রতিভাবান কৌশলী ফুটবলারদের দেখে অনুপ্রাণিত হতো।”

ছেলেকে নিয়ে এখন বাবার চোখে উঁকি দিচ্ছে বড় স্বপ্ন। তার বিশ্বাস, কলম্বিয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে ছাপ রাখবে। সবে সেরা বত্রিশে উঠেছে, কিন্তু কলম্বিয়ার কাছ থেকে এখনও অনেক কিছু পাওয়ার আছে। দিয়াসদের কাছে মানুয়েলের প্রত্যাশা সীমাহীন।

“আমি আশাবাদী এবং বিশ্বাস করি, আমরা ট্রফিটা জিতব। আমি কখনই কোয়ার্টার-ফাইনাল বা সেমি-ফাইনাল নিয়ে তুষ্ট হতে চাই না। সবসময় ফাইনাল খেলতে চাই। কারণে, সেরাদের জায়গা সেখানেই। কলম্বিয়া পথের শেষ পর্যন্ত যাবে।”

বাবা মানুয়েলের স্বপ্ন পূরণের ভার এখন এসে পড়েছে ছেলে দিয়াসের কাঁধে। বইতে পারবেন তো শুধু ফুটবলই খেলতে চাওয়া দিয়াস? উত্তরটা আপাতত সময়ের হাতেই তোলা।








Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy